ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট ও শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ: উত্তরণের পথ কোথায়?

দেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নানাবিধ সংকটে জর্জরিত। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে পা রাখে, কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর অনেকেই এক ভিন্ন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়। আবাসন সংকট, শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন, সিনিয়রদের প্রভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাতে না পারা—সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষার পরিবেশ আজ এক জটিল ধাঁধার সম্মুখীন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হলো আবাসন সমস্যা। এই সংকট কেবল শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গার অভাবই নয়, বরং তাদের শিক্ষাজীবনের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্যমতে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো ধরনের আবাসিক সুবিধা পায় না। ফলে তাদের মেস বা ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি, সেখানে মাত্র ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পায়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রও প্রায় একই রকম।

আবাসন সংকট শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, প্রতিদিন ক্যাম্পাসে যাতায়াত, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং অতিরিক্ত খরচ—এসবই শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। যারা হলে থাকার সুযোগ পায়, তাদেরও অনেক সময় অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে বসবাস করতে হয়। চারজনের কক্ষে সাত-আটজন বা তারও বেশি শিক্ষার্থীর গাদাগাদি করে থাকা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫-২০ জন পর্যন্ত অবস্থান করার ঘটনাও বিরল নয়। এমন পরিবেশে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, যা অনেক শিক্ষার্থীকে তাদের শিক্ষাজীবনের শুরুতেই পিছিয়ে দেয় এবং তাদের আত্মবিশ্বাস হ্রাস করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক সফরের সব চুক্তি জনগণের কাছে স্পষ্ট করার দাবি ইসলামী আন্দোলনের

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট ও শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ: উত্তরণের পথ কোথায়?

আপডেট সময় : ০২:২৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

দেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নানাবিধ সংকটে জর্জরিত। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে পা রাখে, কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর অনেকেই এক ভিন্ন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়। আবাসন সংকট, শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন, সিনিয়রদের প্রভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাতে না পারা—সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষার পরিবেশ আজ এক জটিল ধাঁধার সম্মুখীন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হলো আবাসন সমস্যা। এই সংকট কেবল শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গার অভাবই নয়, বরং তাদের শিক্ষাজীবনের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্যমতে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো ধরনের আবাসিক সুবিধা পায় না। ফলে তাদের মেস বা ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি, সেখানে মাত্র ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পায়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রও প্রায় একই রকম।

আবাসন সংকট শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, প্রতিদিন ক্যাম্পাসে যাতায়াত, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং অতিরিক্ত খরচ—এসবই শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। যারা হলে থাকার সুযোগ পায়, তাদেরও অনেক সময় অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে বসবাস করতে হয়। চারজনের কক্ষে সাত-আটজন বা তারও বেশি শিক্ষার্থীর গাদাগাদি করে থাকা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫-২০ জন পর্যন্ত অবস্থান করার ঘটনাও বিরল নয়। এমন পরিবেশে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, যা অনেক শিক্ষার্থীকে তাদের শিক্ষাজীবনের শুরুতেই পিছিয়ে দেয় এবং তাদের আত্মবিশ্বাস হ্রাস করে।