ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

অপরাধী যেই হোক, রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না: ডিএমপি কমিশনারের কঠোর বার্তা

রাজধানীতে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন, “অপরাধী যেই হোক, তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।”

দায়িত্ব গ্রহণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। তিনি জানান, একটি নিরাপদ, অপরাধমুক্ত ও শান্তিময় রাজধানী গড়ে তুলতে ডিএমপি নিরলসভাবে কাজ করছে এবং এই যাত্রায় গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রায় তিন কোটি মানুষের এই নগরীতে ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও হ্যাকিং বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ দমনে গত ১ মে থেকে ডিএমপি একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।

ডিএমপির সাইবার ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডিবি কার্যালয়ে স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এআইভিত্তিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ই-প্রসিকিউশনও চালু করা হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান মোসলেহ্ উদ্দিন। তিনি বলেন, পশুর হাট, ঈদের জামাত, শপিং মল ও আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী এবং জাল নোট চক্র ঠেকাতে ডিবি ও থানা পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং নাগরিকদের যেকোনো অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক সফরের সব চুক্তি জনগণের কাছে স্পষ্ট করার দাবি ইসলামী আন্দোলনের

অপরাধী যেই হোক, রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না: ডিএমপি কমিশনারের কঠোর বার্তা

আপডেট সময় : ০১:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

রাজধানীতে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন, “অপরাধী যেই হোক, তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।”

দায়িত্ব গ্রহণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। তিনি জানান, একটি নিরাপদ, অপরাধমুক্ত ও শান্তিময় রাজধানী গড়ে তুলতে ডিএমপি নিরলসভাবে কাজ করছে এবং এই যাত্রায় গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রায় তিন কোটি মানুষের এই নগরীতে ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও হ্যাকিং বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ দমনে গত ১ মে থেকে ডিএমপি একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।

ডিএমপির সাইবার ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডিবি কার্যালয়ে স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এআইভিত্তিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ই-প্রসিকিউশনও চালু করা হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান মোসলেহ্ উদ্দিন। তিনি বলেন, পশুর হাট, ঈদের জামাত, শপিং মল ও আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী এবং জাল নোট চক্র ঠেকাতে ডিবি ও থানা পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং নাগরিকদের যেকোনো অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।