পৃথিবী জুড়ে প্লাস্টিক দূষণ এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মানুষের মস্তিষ্ক, রক্ত, বুকের দুধ, নাড়ি ও ধমনীতে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করছে। এখন নদ-নদী ও সমুদ্রের মাছের পেটেও প্লাস্টিকের কণা পাওয়া যাচ্ছে, যা সরাসরি মানুষের খাবার টেবিল পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভৈরব ও রূপসা নদীর তলদেশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ও বিষাক্ত ভারী ধাতুর ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ১০-৩০ সেন্টিমিটার গভীরতার পলিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্যাডমিয়াম-সিসার মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি পরিবেশবিদদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এর প্রভাবে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
গত জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘ইমার্জিং কন্টামিন্যান্টস’-এ প্রকাশিত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের এক গবেষণায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গবেষকরা ভৈরব ও রূপসা নদীর ৯টি জনবহুল পয়েন্ট থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করেন।
নদীর ১০-৩০ সেন্টিমিটার গভীরতায়ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব স্থানের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি পলিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৭০০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা রয়েছে, যার গড় সংখ্যা ৩ হাজার ৬০০টি। মাইক্রোপ্লাস্টিকের মধ্যে প্রধানত ফ্র্যাগমেন্ট, ফাইবার ও ফিল্মের উপস্থিতি মিলেছে। এছাড়া, পলিইথিলিন, পলিস্টাইরিন ও পলিপ্রোপিলিনসহ ৭ ধরনের পলিমারের উপস্থিতি ছিল।
রিপোর্টারের নাম 



















