নীলফামারী শহরের মাধার মোড় এলাকায় চলন্ত ট্রাকের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আল আমিন (২৫) নামে এক যুবক মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিহত আল আমিন বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং একটি মিনি ট্রাকের সহকারী চালক হিসেবে কাজ করতেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডোমার থেকে কাঁচা মরিচ বোঝাই একটি মিনি ট্রাকে করে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন আল আমিন ও তার চালক শাহাদাত হোসেন। নীলফামারী শহরের মাধার মোড়ে পৌঁছালে চালক শাহাদাত আল আমিনকে মোবাইল রিচার্জ করার জন্য গাড়ি থেকে নামতে বলেন।
এ সময় আল আমিন হঠাৎ ট্রাকে থাকা একটি ধারালো ছোরা দিয়ে নিজের বাম হাতের চারটি স্থানে এবং গলার বাম পাশে আঘাত করেন বলে চালক ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত রিকশাযোগে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পথিমধ্যে মাধার মোড় এলাকায় পৌঁছালে আল আমিন আকস্মিকভাবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী বালুবাহী একটি ট্রাকের সামনে ঝাঁপ দেন। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে নীলফামারী সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জিল্লুর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুইটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে এবং মিনি ট্রাকের চালক শাহাদাত হোসেনসহ দুই চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং বিস্তারিত তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিহত যুবকের অস্বাভাবিক আচরণ, শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং পরবর্তীতে চলন্ত ট্রাকের সামনে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি পূর্বপরিকল্পিত কোনো ঘটনা নাকি মানসিক অস্থিরতা থেকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























