ঢাকা ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

প্রযুক্তির দাপটে ময়মনসিংহে টেলিভিশন হারাচ্ছে দর্শক, কমছে ডিশ সংযোগের গ্রাহক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

একসময় বিনোদন ও সংবাদ জানার প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিভিশন। সন্ধ্যা নামলেই পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বসে খবর, নাটক কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখতেন। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার, স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্থানের কারণে ময়মনসিংহে দিনে দিনে টেলিভিশনের দর্শক কমছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে ডিশ সংযোগের গ্রাহকও।

শহরের বিভিন্ন ডিশ ব্যবসায়ী ও সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিবার তাদের ক্যাবল সংযোগ বাতিল করেছে। অনেক বাড়িতে এখন টেলিভিশন থাকলেও সেটি সংবাদ বা বিনোদনের জন্য নয়, বরং সিসি ক্যামেরার মনিটর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নগরীর সিকে ঘোষ রোডের বাসিন্দা ফজলুল হক জানান, আগে একটি পরিবারে একাধিক টেলিভিশন দেখা গেলেও এখন নতুন টিভি কেনার প্রবণতা কমে গেছে।

নগরীর জামান ইলেকট্রনিক্সের ম্যানেজার সজল মিয়ার ভাষ্য, আগের মতো এখন আর টেলিভিশন বিক্রি হয় না। মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন চলে আসায় টিভির চাহিদা কমেছে। স্থানীয় সাংবাদিক জগলুল পাশা রুশো বলেন, স্মার্টফোন সহজলভ্য হওয়ায় টেলিভিশনের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। মানুষ এখন খবর, বিনোদন, গান, নাটক—সবকিছুই মোবাইলে দেখছে। আগে যেখানে পাঁচ মিনিটের গান বা অনুষ্ঠান দেখার ধৈর্য ছিল, এখন ৩০ সেকেন্ডের শর্ট ভিডিওতেই মানুষ বিনোদন খুঁজে নিচ্ছে। দ্রুত বদলে যাওয়া এই অভ্যাস মানুষের মনোযোগ ও ধৈর্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে সচেতন মহল মনে করছে।

অনেকেই অভিযোগ করেন, টেলিভিশনে এখন বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের পরিবর্তে অধিকাংশ চ্যানেলে দলীয় গুণগান বেশি প্রচারিত হয়। এই ধারণাও দর্শকদের টেলিভিশনবিমুখ করে তুলছে। এসব কারণে মানুষ ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনভিত্তিক কনটেন্টের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে অনেক সাংবাদিকও এখন মোবাইল জার্নালিজম (মোজো) রিপোর্টিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সরাসরি রিপোর্টিংয়ের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিক ভিডিও, লাইভ ও তথ্য প্রকাশের কারণে দর্শকও এখন টেলিভিশনের জন্য অপেক্ষা না করে মোবাইলেই সংবাদ দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গণমাধ্যম ও যুবসমাজের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য: জবি উপাচার্য

প্রযুক্তির দাপটে ময়মনসিংহে টেলিভিশন হারাচ্ছে দর্শক, কমছে ডিশ সংযোগের গ্রাহক

আপডেট সময় : ১১:২৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

একসময় বিনোদন ও সংবাদ জানার প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিভিশন। সন্ধ্যা নামলেই পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বসে খবর, নাটক কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখতেন। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার, স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্থানের কারণে ময়মনসিংহে দিনে দিনে টেলিভিশনের দর্শক কমছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে ডিশ সংযোগের গ্রাহকও।

শহরের বিভিন্ন ডিশ ব্যবসায়ী ও সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিবার তাদের ক্যাবল সংযোগ বাতিল করেছে। অনেক বাড়িতে এখন টেলিভিশন থাকলেও সেটি সংবাদ বা বিনোদনের জন্য নয়, বরং সিসি ক্যামেরার মনিটর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নগরীর সিকে ঘোষ রোডের বাসিন্দা ফজলুল হক জানান, আগে একটি পরিবারে একাধিক টেলিভিশন দেখা গেলেও এখন নতুন টিভি কেনার প্রবণতা কমে গেছে।

নগরীর জামান ইলেকট্রনিক্সের ম্যানেজার সজল মিয়ার ভাষ্য, আগের মতো এখন আর টেলিভিশন বিক্রি হয় না। মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন চলে আসায় টিভির চাহিদা কমেছে। স্থানীয় সাংবাদিক জগলুল পাশা রুশো বলেন, স্মার্টফোন সহজলভ্য হওয়ায় টেলিভিশনের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। মানুষ এখন খবর, বিনোদন, গান, নাটক—সবকিছুই মোবাইলে দেখছে। আগে যেখানে পাঁচ মিনিটের গান বা অনুষ্ঠান দেখার ধৈর্য ছিল, এখন ৩০ সেকেন্ডের শর্ট ভিডিওতেই মানুষ বিনোদন খুঁজে নিচ্ছে। দ্রুত বদলে যাওয়া এই অভ্যাস মানুষের মনোযোগ ও ধৈর্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে সচেতন মহল মনে করছে।

অনেকেই অভিযোগ করেন, টেলিভিশনে এখন বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের পরিবর্তে অধিকাংশ চ্যানেলে দলীয় গুণগান বেশি প্রচারিত হয়। এই ধারণাও দর্শকদের টেলিভিশনবিমুখ করে তুলছে। এসব কারণে মানুষ ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনভিত্তিক কনটেন্টের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে অনেক সাংবাদিকও এখন মোবাইল জার্নালিজম (মোজো) রিপোর্টিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সরাসরি রিপোর্টিংয়ের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিক ভিডিও, লাইভ ও তথ্য প্রকাশের কারণে দর্শকও এখন টেলিভিশনের জন্য অপেক্ষা না করে মোবাইলেই সংবাদ দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন।