পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি ফারাক্কা বাঁধের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাংলাদেশের ১৯টি জেলাকে রক্ষা করতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো শুকিয়ে যেতে শুরু করে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার রাজবাড়ীর পাংশা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বুধবার একনেক সভায় প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায় অনুমোদিত হয়েছে, যা ২০২৬ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সংরক্ষিত এই পানি গড়াই-মধুমতি, হিসনা-মাথাভাঙ্গা ও চন্দনা-বারাশিয়ার মতো শাখা নদীগুলোতে প্রবাহিত করা হবে, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা কমিয়ে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করবে। এছাড়া এই বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং বার্ষিক কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ব্যারাজ থেকে কোনো জ্বালানি খরচ ছাড়াই প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা জাতীয় গ্রিডে অবদান রাখবে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি কেবল একটি বাঁধ নয়, বরং এটি বহুমুখী অবকাঠামো হিসেবে কাজ করবে। এর ওপর দিয়ে রেললাইন ও সড়ক সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে মৃতপ্রায় নদীগুলো প্রাণ ফিরে পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। ফারাক্কার প্রভাবে মরুভূমি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ১৯টি জেলার কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় এই প্রকল্পটিকে একটি স্থায়ী সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর দেশের অর্থনীতিতে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক রিটার্ন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















