ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

আউটলুক ‘নেগেটিভ’: বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা নিয়ে ফিচ রেটিংসের সতর্কতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ রেটিংস বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগজনক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ইস্যুআর ডিফল্ট রেটিং (আইডিআর) এর আউটলুক বা ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘ঋণাত্মক’ (নেগেটিভ) করেছে। তবে দেশের বর্তমান রেটিং ‘বি প্লাস’ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নেগেটিভ আউটলুকের অর্থ হলো, নিকট ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সূচকগুলোর আরও অবনতি ঘটলে বাংলাদেশের মূল রেটিং কমিয়ে দেওয়া হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ গ্রহণের খরচ বাড়িয়ে দেবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।

ফিচ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে ঋণ পরিশোধে সক্ষম হলেও সামষ্টিক অর্থনীতি, ভঙ্গুর ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অপর্যাপ্ততা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশের অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মার্চ শেষে দেশের রিজার্ভ ছিল ২৯.৫ বিলিয়ন ডলার, যা চার মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান হলেও ‘বি’ ক্যাটাগরির দেশগুলোর তুলনায় বেশ কম। আইএমএফ-এর শর্ত বাস্তবায়ন বা বৈদেশিক লেনদেনে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে এই রিজার্ভ পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হতে পারে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফিচ। বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের অর্ধেক এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল এই অঞ্চল থেকেই আসে। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক খাতের দুর্বল সুশাসন, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ধীরগতিও ফিচের পর্যবেক্ষণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সংস্থাটির মতে, ব্যাংক ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

১ আগস্ট থেকে দেওয়া হবে টাইফয়েডের টিকা, লক্ষ্যমাত্রা ১৫ মাস বয়সী শিশু

আউটলুক ‘নেগেটিভ’: বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা নিয়ে ফিচ রেটিংসের সতর্কতা

আপডেট সময় : ১০:৩৪:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ রেটিংস বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগজনক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ইস্যুআর ডিফল্ট রেটিং (আইডিআর) এর আউটলুক বা ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘ঋণাত্মক’ (নেগেটিভ) করেছে। তবে দেশের বর্তমান রেটিং ‘বি প্লাস’ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নেগেটিভ আউটলুকের অর্থ হলো, নিকট ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সূচকগুলোর আরও অবনতি ঘটলে বাংলাদেশের মূল রেটিং কমিয়ে দেওয়া হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ গ্রহণের খরচ বাড়িয়ে দেবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।

ফিচ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে ঋণ পরিশোধে সক্ষম হলেও সামষ্টিক অর্থনীতি, ভঙ্গুর ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অপর্যাপ্ততা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশের অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মার্চ শেষে দেশের রিজার্ভ ছিল ২৯.৫ বিলিয়ন ডলার, যা চার মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান হলেও ‘বি’ ক্যাটাগরির দেশগুলোর তুলনায় বেশ কম। আইএমএফ-এর শর্ত বাস্তবায়ন বা বৈদেশিক লেনদেনে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে এই রিজার্ভ পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হতে পারে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফিচ। বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের অর্ধেক এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল এই অঞ্চল থেকেই আসে। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক খাতের দুর্বল সুশাসন, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ধীরগতিও ফিচের পর্যবেক্ষণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সংস্থাটির মতে, ব্যাংক ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হবে।