বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মাছের প্রজনন বৃদ্ধিতে সরকার কর্তৃক জারি করা ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে জেলে সম্প্রদায়ের জীবনে এক চরম সংকট তৈরি করেছে। আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকায় হাজার হাজার জেলে পরিবার খাদ্য সংকট ও আর্থিক দুরবস্থার শিকার হচ্ছেন। জ্বালানি সংকটের কারণে নিষেধাজ্ঞার আগেই অনেক জেলে মাছ ধরতে যেতে পারেননি, ফলে তাদের জীবনযাত্রা প্রায় চার মাস ধরে থমকে আছে।
বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় অনেক জেলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সরকারি সহায়তার অপর্যাপ্ততা এবং দাদন ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিবারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। টেকনাফের কয়েক হাজার জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যা তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা এই এলাকায় গত দেড় বছর ধরে আরাকান আর্মির অস্থিরতা, অপহরণের ভয় এবং নাফ নদী ও সাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে নানা ভীতি ছিল। সেই পরিস্থিতি না কাটতেই দেখা দেয় জ্বালানি সংকট, যা অনেক জেলেকে নিয়মিত সাগরে যেতে বাধা দেয়। এর মধ্যেই শুরু হওয়া সরকারি নিষেধাজ্ঞা তাদের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। টেকনাফের অধিকাংশ জেলে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করেই সংসার চালান। দীর্ঘ চার মাস কর্মহীন হয়ে থাকায় তারা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল দেওয়া হয়। তবে জেলেদের ভাষ্যমতে, এই চাল দিয়ে তাদের সংসার চলে না। টেকনাফ উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১০ হাজার ৬৮৩ জন, যাদের ১ হাজার ৫৩২টি নৌযান রয়েছে। এছাড়াও প্রায় এক হাজার অনিবন্ধিত জেলে এবং নাফ নদীর মোহনায় আরও কয়েকশ জেলে রয়েছেন। সরকারি সহায়তা মূলত নিবন্ধিত জেলেরা পান, ফলে অনিবন্ধিত জেলেরা এই সময়ে আরও বেশি দুর্দশার শিকার হন।
রিপোর্টারের নাম 





















