ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন লক্ষাধিক অনিবন্ধিত জেলে: সাতক্ষীরায় সরকারি সহায়তা না পেয়ে মানবেতর জীবন

সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের লক্ষাধিক অনিবন্ধিত জেলে ও তাদের পরিবার বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। সমুদ্র ও সুন্দরবনে মাছ ধরার ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সমুদ্রে মাছ ধরা, পরিবহন ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকায় এসব জেলে কোনো আয় করতে পারছেন না।

মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছের অবাধ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার ১৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিনের জন্য মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সময়ে সমুদ্রগামী নৌযান দিয়ে যেকোনো প্রজাতির মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ।

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরায় বর্তমানে ৪৯ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ হাজার ৮৮৯ জন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। এই নিবন্ধিত জেলেরা নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জনপ্রতি মোট ৭৭.৩৩ কেজি করে ভিজিএফ চালের সরকারি সহায়তা পান। তবে, জেলায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক জেলে থাকলেও, বাকি লক্ষাধিক অনিবন্ধিত জেলে কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না। এর মধ্যে শ্যামনগরে প্রায় ৪০ হাজার, আশাশুনিতে ২০ হাজার, তালায় ২০ হাজার, কালিগঞ্জে ১০ হাজার এবং অন্যান্য উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার করে অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন।

আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার চালাতে এসব অনিবন্ধিত জেলে এনজিও এবং দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সারা বছরই টানাপোড়েন ও বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে জীবন কাটানো এই জেলে পরিবারগুলো নিষেধাজ্ঞার সময়ে খাদ্যাভাব ও ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজয়ী স্প্যানিশ ফুটবল দলের রাজকীয় সংবর্ধনা: মাদ্রিদের রাজপথে লাখো মানুষের উল্লাস

নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন লক্ষাধিক অনিবন্ধিত জেলে: সাতক্ষীরায় সরকারি সহায়তা না পেয়ে মানবেতর জীবন

আপডেট সময় : ০৮:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের লক্ষাধিক অনিবন্ধিত জেলে ও তাদের পরিবার বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। সমুদ্র ও সুন্দরবনে মাছ ধরার ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সমুদ্রে মাছ ধরা, পরিবহন ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকায় এসব জেলে কোনো আয় করতে পারছেন না।

মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছের অবাধ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার ১৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিনের জন্য মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সময়ে সমুদ্রগামী নৌযান দিয়ে যেকোনো প্রজাতির মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ।

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরায় বর্তমানে ৪৯ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ হাজার ৮৮৯ জন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। এই নিবন্ধিত জেলেরা নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জনপ্রতি মোট ৭৭.৩৩ কেজি করে ভিজিএফ চালের সরকারি সহায়তা পান। তবে, জেলায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক জেলে থাকলেও, বাকি লক্ষাধিক অনিবন্ধিত জেলে কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না। এর মধ্যে শ্যামনগরে প্রায় ৪০ হাজার, আশাশুনিতে ২০ হাজার, তালায় ২০ হাজার, কালিগঞ্জে ১০ হাজার এবং অন্যান্য উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার করে অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন।

আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার চালাতে এসব অনিবন্ধিত জেলে এনজিও এবং দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সারা বছরই টানাপোড়েন ও বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে জীবন কাটানো এই জেলে পরিবারগুলো নিষেধাজ্ঞার সময়ে খাদ্যাভাব ও ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।