কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর সৃষ্ট বর্জ্যের প্রভাবে স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৩০০ একর আবাদি জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে এসব জমি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হানছে। পাশাপাশি ক্যাম্পগুলোতে মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বিরোধ সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এছাড়া মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সঠিক সমন্বয় এবং স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়। স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না করে জেলার বাইরে থেকে জনবল নিয়োগের প্রবণতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এই সংকট নিরসনে একটি কার্যকর ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন’ গঠনের দাবি জানানো হয়েছে, যা সরাসরি প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করবে এবং স্থানীয়দের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবে। একই সঙ্গে ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষি জমি ধ্বংসের পাশাপাশি বনভূমি উজাড় হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে রোহিঙ্গা কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























