ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের তৈরি ভূরাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ দুটি ফাঁদে আটকা পড়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দ্রুত সংঘাত অবসানের প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্প এখন এই পরিস্থিতি থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব এবং তাদের অনমনীয় অবস্থান ট্রাম্পকে সামরিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট বিজয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই সংঘাতের দীর্ঘসূত্রিতা ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিকল্পগুলোকে সীমিত করে দিচ্ছে। তার রেটিং কমে যাওয়া, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে।
এই অচলাবস্থার কারণে ট্রাম্প বারবার শান্তি আলোচনায় অতিরিক্ত আশাবাদী দাবি করেন এবং কোনো ইঙ্গিত ছাড়াই সামরিক কৌশল ঘোষণা বা পরিবর্তন করার প্রবণতা দেখান।
তবে আশার কথা হলো, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী তৃতীয় পক্ষ পাকিস্তানের মধ্যে একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই নথির মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
যদিও এটি ট্রাম্পের সরলীকৃত সমাধানের প্রতি আগ্রহের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, তবে অর্ধশতাব্দী ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের জটিল ইস্যুগুলো, যেমন— পারমাণবিক আলোচনা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত সংঘাত— একটি এক পৃষ্ঠার নথির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। পাশাপাশি, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলের অবাধ নিশ্চয়তাসহ ইরানের ব্যাপক চাহিদাও এই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রিপোর্টারের নাম 























