ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

করদাতাদের রসিদে জানানো হবে করের টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নাগরিকদের কর প্রদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে আয়কর রসিদেই জানানো হবে যে করের অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে, জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, করদাতারা তখনই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে আগ্রহী হবেন, যখন তাঁরা বুঝতে পারবেন রাষ্ট্র তাঁদের করের বিনিময়ে কী ধরনের সেবা প্রদান করছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর কাওরান বাজারে সিএ ভবনে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে। ড. তিতুমীর জানান, আগামী বাজেট থেকেই এমন একটি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে করদাতাকে দেওয়া রসিদে উল্লেখ থাকবে— তাঁর পরিশোধিত করের কত অংশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে সামাজিক আস্থার সম্পর্ক গড়ে না উঠলে কর ফাঁকি ও কর জালিয়াতি কমানো সম্ভব নয়। দেশে কর ফাঁকি ও জালিয়াতির পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, গোষ্ঠীতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে কর খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা কর ফাঁকি ও জালিয়াতির মূল কারণ। বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম নিম্ন হার। উন্নয়নের নানা দাবি করা হলেও করব্যবস্থার ভিত্তি এখনও দুর্বল রয়ে গেছে।

কর ব্যবস্থায় ‘সংযুক্তি’ (করদাতাকে জানানো যে তাঁর করের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে) ও ‘বিযুক্তি’ (করদাতা ও কর কর্মকর্তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ কমিয়ে আনা)—এই দুই ধরনের সংস্কারের কথা তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, সরকার করের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে চায় না, বরং অর্থনীতির পরিধি বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়াতে চায়। তাঁর মতে, প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং অনানুষ্ঠানিক খাতকে মূল অর্থনীতির আওতায় আনা, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে প্রণোদনা দেওয়া এবং এসএমই নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ বছরের বিরতি ভেঙে সাদের নতুন কাজ ‘অ্যানি’, বিশ্বমঞ্চে নাজিফা তুষি

করদাতাদের রসিদে জানানো হবে করের টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৮:১২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

নাগরিকদের কর প্রদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে আয়কর রসিদেই জানানো হবে যে করের অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে, জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, করদাতারা তখনই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে আগ্রহী হবেন, যখন তাঁরা বুঝতে পারবেন রাষ্ট্র তাঁদের করের বিনিময়ে কী ধরনের সেবা প্রদান করছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর কাওরান বাজারে সিএ ভবনে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে। ড. তিতুমীর জানান, আগামী বাজেট থেকেই এমন একটি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে করদাতাকে দেওয়া রসিদে উল্লেখ থাকবে— তাঁর পরিশোধিত করের কত অংশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে সামাজিক আস্থার সম্পর্ক গড়ে না উঠলে কর ফাঁকি ও কর জালিয়াতি কমানো সম্ভব নয়। দেশে কর ফাঁকি ও জালিয়াতির পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, গোষ্ঠীতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে কর খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা কর ফাঁকি ও জালিয়াতির মূল কারণ। বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম নিম্ন হার। উন্নয়নের নানা দাবি করা হলেও করব্যবস্থার ভিত্তি এখনও দুর্বল রয়ে গেছে।

কর ব্যবস্থায় ‘সংযুক্তি’ (করদাতাকে জানানো যে তাঁর করের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে) ও ‘বিযুক্তি’ (করদাতা ও কর কর্মকর্তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ কমিয়ে আনা)—এই দুই ধরনের সংস্কারের কথা তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, সরকার করের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে চায় না, বরং অর্থনীতির পরিধি বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়াতে চায়। তাঁর মতে, প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং অনানুষ্ঠানিক খাতকে মূল অর্থনীতির আওতায় আনা, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে প্রণোদনা দেওয়া এবং এসএমই নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।