ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

রাজ্যপালের আপত্তিতে থালাপতি বিজয়ের সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, আইন কী বলছে?

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে একাই বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের দল, ১০৮টি আসন লাভ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে তারা এখনো ১০টি আসন দূরে। এই পরিস্থিতিতে, বিজয় তাঁর ১০৭ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সহ রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং মৌখিকভাবে পাঁচজন কংগ্রেস বিধায়কের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু দুই দিন অপেক্ষার পরও রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকার গঠনের জন্য ১১৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরের প্রমাণ প্রয়োজন।

বর্তমান ডিএমকে সরকারের মেয়াদ আর মাত্র তিন দিন বাকি। এমন সময়ে সরকার গঠন নিয়ে এই অচলাবস্থা সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজ্যপালের ক্ষমতা ও তাঁর স্বেচ্ছাধীন এখতিয়ার নিয়ে এক বিশাল সাংবিধানিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যপাল কি একক বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য, নাকি আমন্ত্রণের আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাইয়ে তিনি নিজের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারেন?

ভারতের শীর্ষস্থানীয় সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। যদিও বিধানসভার ফ্লোর টেস্ট বা আস্থা ভোটই যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের চূড়ান্ত পথ, সে বিষয়ে সবাই একমত, তবে তার আগের পর্যায়ে রাজ্যপালের ক্ষমতা কতটুকু, তা নিয়ে বিতর্ক বিদ্যমান।

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহাতগি মনে করেন, রাজ্যপাল সাংবিধানিকভাবে একক বৃহত্তম দলকে প্রথমে আমন্ত্রণ জানাতে বাধ্য। রাজ্যপালের বর্তমান অবস্থানকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যপালের কর্তব্য হলো একক বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া এবং তাদের ফ্লোর টেস্টের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ করে দেওয়া। রোহাতগি যুক্তি দেন যে, শপথ নেওয়ার আগেই ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণ দেওয়ার জন্য রাজ্যপাল জোর করতে পারেন না। তাঁর মতে, এই পর্যায়ে রাজ্যপালের ভূমিকা অত্যন্ত সীমিত; তিনি বড়জোর বিধায়কদের স্বাক্ষরগুলো সঠিক কি না তা যাচাই করতে পারেন। ভারতে অতীতে অনেক সংখ্যালঘু সরকার গঠনের নজির রয়েছে, যেখানে সরকার গঠনের আমন্ত্রণের আগে পূর্ব-যাচাইকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাধ্যতামূলক ছিল না।

অন্যদিকে, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নীরজ কিষাণ সংবিধানের অস্পষ্টতা এবং বিচারিক পর্যবেক্ষণের উপর জোর দিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ বছরের বিরতি ভেঙে সাদের নতুন কাজ ‘অ্যানি’, বিশ্বমঞ্চে নাজিফা তুষি

রাজ্যপালের আপত্তিতে থালাপতি বিজয়ের সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, আইন কী বলছে?

আপডেট সময় : ০৮:১১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে একাই বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের দল, ১০৮টি আসন লাভ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে তারা এখনো ১০টি আসন দূরে। এই পরিস্থিতিতে, বিজয় তাঁর ১০৭ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সহ রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং মৌখিকভাবে পাঁচজন কংগ্রেস বিধায়কের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু দুই দিন অপেক্ষার পরও রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকার গঠনের জন্য ১১৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরের প্রমাণ প্রয়োজন।

বর্তমান ডিএমকে সরকারের মেয়াদ আর মাত্র তিন দিন বাকি। এমন সময়ে সরকার গঠন নিয়ে এই অচলাবস্থা সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজ্যপালের ক্ষমতা ও তাঁর স্বেচ্ছাধীন এখতিয়ার নিয়ে এক বিশাল সাংবিধানিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যপাল কি একক বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য, নাকি আমন্ত্রণের আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাইয়ে তিনি নিজের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারেন?

ভারতের শীর্ষস্থানীয় সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। যদিও বিধানসভার ফ্লোর টেস্ট বা আস্থা ভোটই যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের চূড়ান্ত পথ, সে বিষয়ে সবাই একমত, তবে তার আগের পর্যায়ে রাজ্যপালের ক্ষমতা কতটুকু, তা নিয়ে বিতর্ক বিদ্যমান।

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহাতগি মনে করেন, রাজ্যপাল সাংবিধানিকভাবে একক বৃহত্তম দলকে প্রথমে আমন্ত্রণ জানাতে বাধ্য। রাজ্যপালের বর্তমান অবস্থানকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যপালের কর্তব্য হলো একক বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া এবং তাদের ফ্লোর টেস্টের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ করে দেওয়া। রোহাতগি যুক্তি দেন যে, শপথ নেওয়ার আগেই ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণ দেওয়ার জন্য রাজ্যপাল জোর করতে পারেন না। তাঁর মতে, এই পর্যায়ে রাজ্যপালের ভূমিকা অত্যন্ত সীমিত; তিনি বড়জোর বিধায়কদের স্বাক্ষরগুলো সঠিক কি না তা যাচাই করতে পারেন। ভারতে অতীতে অনেক সংখ্যালঘু সরকার গঠনের নজির রয়েছে, যেখানে সরকার গঠনের আমন্ত্রণের আগে পূর্ব-যাচাইকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাধ্যতামূলক ছিল না।

অন্যদিকে, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নীরজ কিষাণ সংবিধানের অস্পষ্টতা এবং বিচারিক পর্যবেক্ষণের উপর জোর দিয়েছেন।