বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সরকারের কাছে করের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমার করের টাকা নিয়ে কী করা হচ্ছে? যেভাবে কর আদায় করা হয়, সেভাবে করের অর্থের কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তারও জবাবদিহি থাকতে হবে।”
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। শওকত আজিজ রাসেল বলেন, দেশের শিল্পখাত বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সরকার নিশ্চিত করতে পারছে না। তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের শিল্পায়নের নীতিগত সহায়তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বর্তমানে সেই পথে আমরা নেই, নীতি সংস্কার হচ্ছে না এবং ব্যবসায় ধস নামছে।
তিনি করের অর্থ ব্যবহারে নজরদারির জন্য একটি পৃথক সেল গঠনের প্রস্তাব করেন। সরকারের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয়ের প্রবণতা বেশি। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।” আগামী বাজেটে শিল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কত শতাংশ বরাদ্দ থাকবে, তা স্পষ্টভাবে প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এর সভাপতি এন কে এ মবিন জানান, আগামী বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা হতে পারে এবং রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা। তিনি টেকসই রাজস্ব আহরণের জন্য প্রত্যক্ষ করের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে এবং ভ্যাট ও কর ফাঁকি বন্ধ করার ওপর জোর দেন। আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য সাব্বির আহমেদ তার মূল প্রবন্ধে বলেন, জবাবদিহিমূলক আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে কাগজভিত্তিক হিসাব ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ডিজিটাল হিসাব ও প্রতিবেদন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি, যা তাৎক্ষণিক আর্থিক প্রতিবেদন, তদারকি বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি ও জালিয়াতি কমাতে সহায়ক হবে।
রিপোর্টারের নাম 



















