বাংলাদেশে অপরাধ দমনে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তালিকা প্রণয়ন একটি দীর্ঘকালীন কৌশল হলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অপরাধ জগতের অস্থিরতায় এই প্রক্রিয়াটি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০০১ সালে প্রথমবার ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশের পর ২০১০ সালে আরও ৪২ জনের নাম যুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি অপরাধীদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে সহিংসতা ও খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ প্রশাসন এই তালিকা নতুন করে হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে, গত ২৬ এপ্রিল তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন নিহত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার জানিয়েছেন যে, বর্তমানে বড় মাপের শীর্ষ সন্ত্রাসী না থাকলেও তাদের সহযোগী এবং নতুন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাকারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মূলত অপরাধের ধরণ, বিস্তৃতি এবং প্রভাবের ওপর ভিত্তি করেই এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়। শুধু সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়, বরং চাঁদাবাজি, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং বিদেশে অবস্থান করে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা যাচাই করেই কাউকে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে গণ্য করা হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন যে, অনেক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী জেলে বা এক এলাকায় অবস্থান করলেও অন্য এলাকায় তাদের নির্দেশে অপরাধ সংঘটিত হয়, তাই এই ‘অপরাধ ম্যাপিং’ তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধ কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত অনেক সন্ত্রাসী এখনও দেশের বাইরে থেকে নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সোমবার এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, জামিনে মুক্ত হওয়া কেউ যদি পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তবে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বদ্ধপরিকর এবং সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আগেই তাদের নির্মূল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























