ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

দেউতি হাট ইজারা নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পীরগাছার ইউএনও দেবাশীষ বসাক বদলি

রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাককে বদলি করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী দেউতি হাট ইজারা ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের মধ্যে এই বদলি আদেশ জারি হয়।

বৃহস্পতিবার রংপুর জেলা প্রশাসন থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে তাকে হরিপুর উপজেলায় বদলি করা হয়। একই আদেশে তাকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। পীরগাছার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান তাহসিনকে সাময়িকভাবে ইউএনও-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তাকে হরিপুরে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও নতুন করে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মুজাক্কিনকে পীরগাছায় পদায়ন করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল পীরগাছা ইউএনও কার্যালয়ে খাস ডাকের মাধ্যমে দেউতি হাট ইজারা দেওয়া হয়। এতে ২০ জন বিডার অংশ নেন এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যস্থতায় ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায় পারুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন হাটের ইজারা পান।

পরে বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী দাবি করা হয়, হাট ইজারায় বড় অঙ্কের ‘ঘুষ’ দিতে হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ইউএনওর নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নামে বিভিন্ন অঙ্কসহ মোট ৬ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করেন, এসব অর্থ আদায় অবৈধ এবং চাঁদাবাজির শামিল। তাদের দাবি, আগের বছরেও একই ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, হাট ইজারা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত মূল্য দেখানো ও সাব-ইজারা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সাব-ইজারাদার বেলাল হোসেন জানান, প্রকৃত খাস ডাকের মূল্য ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা হলেও পরে তা বাড়িয়ে দেখানো হয় এবং তিনি ৪৫ লাখ টাকায় সাব-ইজারা পান।

ইজারাদার আব্দুল মতিন অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “আমি কাকে কত দিয়েছি, সেটা আমার বিষয়।” অন্যদিকে জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি রাজনৈতিক বলে উল্লেখ করে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে ইউএনও দেবাশীষ বসাক বলেন, “আমাকে হরিপুর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।” রংপুর জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা এডিসি ডেভলপমেন্ট রোকসানা বলেন, হাট-বাজার পরিচালনার দায়িত্ব ইউএনওদের ওপর ন্যস্ত থাকে এবং এ সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেটে বিশেষ সুবিধা: ১৫ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করা যাবে কালো টাকা

দেউতি হাট ইজারা নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পীরগাছার ইউএনও দেবাশীষ বসাক বদলি

আপডেট সময় : ১১:০৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাককে বদলি করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী দেউতি হাট ইজারা ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের মধ্যে এই বদলি আদেশ জারি হয়।

বৃহস্পতিবার রংপুর জেলা প্রশাসন থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে তাকে হরিপুর উপজেলায় বদলি করা হয়। একই আদেশে তাকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। পীরগাছার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান তাহসিনকে সাময়িকভাবে ইউএনও-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তাকে হরিপুরে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও নতুন করে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মুজাক্কিনকে পীরগাছায় পদায়ন করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল পীরগাছা ইউএনও কার্যালয়ে খাস ডাকের মাধ্যমে দেউতি হাট ইজারা দেওয়া হয়। এতে ২০ জন বিডার অংশ নেন এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যস্থতায় ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায় পারুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন হাটের ইজারা পান।

পরে বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী দাবি করা হয়, হাট ইজারায় বড় অঙ্কের ‘ঘুষ’ দিতে হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ইউএনওর নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নামে বিভিন্ন অঙ্কসহ মোট ৬ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করেন, এসব অর্থ আদায় অবৈধ এবং চাঁদাবাজির শামিল। তাদের দাবি, আগের বছরেও একই ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, হাট ইজারা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত মূল্য দেখানো ও সাব-ইজারা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সাব-ইজারাদার বেলাল হোসেন জানান, প্রকৃত খাস ডাকের মূল্য ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা হলেও পরে তা বাড়িয়ে দেখানো হয় এবং তিনি ৪৫ লাখ টাকায় সাব-ইজারা পান।

ইজারাদার আব্দুল মতিন অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “আমি কাকে কত দিয়েছি, সেটা আমার বিষয়।” অন্যদিকে জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি রাজনৈতিক বলে উল্লেখ করে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে ইউএনও দেবাশীষ বসাক বলেন, “আমাকে হরিপুর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।” রংপুর জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা এডিসি ডেভলপমেন্ট রোকসানা বলেন, হাট-বাজার পরিচালনার দায়িত্ব ইউএনওদের ওপর ন্যস্ত থাকে এবং এ সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।