ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

হিটলারের মৃত্যু: আজও অমীমাংসিত কিছু প্রশ্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

১৯৪৫ সালের পহেলা মে বিবিসি রেডিওর সংবাদ পাঠক স্টুয়ার্ট হিবার্ড যখন হিটলারের মৃত্যুর খবরটি পড়েন, তখন লন্ডনে রাত প্রায় সাড়ে ১০টা। জার্মান রেডিও ওই সময় ঘোষণা দেয় যে হিটলার মারা গেছেন। এরপর তিনি ‘আই রিপিট’ বলে একই বাক্যের পুনরাবৃত্তি করেন। ওইদিন জার্মান রেডিওর এই ঘোষণা প্রথম ইংরেজিতে সম্প্রচার করে বিবিসি। জার্মান রেডিওর ঘোষণায় হিটলারের মৃত্যুর খবরের সাথে বলা হয়, হিটলার জার্মানির হয়ে বলশেভিকদের সাথে লড়াই করতে করতে মারা গেছেন।

হিটলার আর জীবিত নেই – এ খবর তখন পাওয়া গেলেও তার অনেক পরে জানা যায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। হিটলারের শেষ সময় তার সাথে বাংকারে অবস্থান করা তার সহচরদের সাক্ষাৎকার এবং হিটলারকে নিয়ে হওয়া বহু গবেষণার ভিত্তিতে তার আত্মহত্যার বিষয়টিকে ঐতিহাসিকভাবে সত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু তার লাশ কোথায় এবং তা নিয়ে কী করা হয়েছে, সে বিষয়ে আজও মতভেদ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

হিটলারের মৃত্যুর ৪৮ বছর পর, ১৯৯৩ সালে প্রথমবার রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয় যে তার লাশ তাদের কাছে রয়েছে। তারও ৭ বছর পর ২০০০ সালে মস্কোতে এক প্রদর্শনীতে হিটলারের মাথার খুলির একাংশ দেখানোর দাবি করা হয়। তবে জার্মান ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক ও হিটলার বিশেষজ্ঞ ওয়ার্নার মেইসার সবসময়ই এই দাবিকে ‘ভুয়া’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হওয়া ‘হিটলারের ডায়েরি’র বিষয়বস্তুকেও ‘জাল’ দাবি করা প্রথম বিশেষজ্ঞ ছিলেন মেইসার। পরে হিটলারের ডায়েরি ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়।

ইউরোপে যুদ্ধ যখন শেষদিকে এবং সোভিয়েত বাহিনী জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রায় ঢুকে পড়েছে, তখন হিটলার তার কাছের লোকদের নিয়ে বার্লিনের একটি বাংকারে আশ্রয় নেন। ওই বাংকারে হিটলারের সাথে ছিলেন তার সেক্রেটারি ট্রাউডল ইয়ুঙ্গে। ইয়ুঙ্গে ১৯৪৩ সালে ২২ বছর বয়সে জার্মান চ্যান্সেলারিতে টাইপিস্ট হিসেবে যোগ দেন এবং সেখান থেকেই হিটলারের সেক্রেটারি হিসেবে কাজের সুযোগ পান। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি তখন ২২ বছর বয়সী এক তরুণী। আমি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ খুঁজছিলাম। আমার বোন তখন বার্লিনে নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করছিল। আমি তখন রাইখস চ্যান্সেলারিতে সেক্রেটারি হিসেবে টাইপিস্টের চাকরির সুযোগ পাই এবং তা গ্রহণ করি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী ব্যাংকে শাবিপ্রবির ২৫ কোটি টাকা জমা, মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সুবিধা

হিটলারের মৃত্যু: আজও অমীমাংসিত কিছু প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৫:০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

১৯৪৫ সালের পহেলা মে বিবিসি রেডিওর সংবাদ পাঠক স্টুয়ার্ট হিবার্ড যখন হিটলারের মৃত্যুর খবরটি পড়েন, তখন লন্ডনে রাত প্রায় সাড়ে ১০টা। জার্মান রেডিও ওই সময় ঘোষণা দেয় যে হিটলার মারা গেছেন। এরপর তিনি ‘আই রিপিট’ বলে একই বাক্যের পুনরাবৃত্তি করেন। ওইদিন জার্মান রেডিওর এই ঘোষণা প্রথম ইংরেজিতে সম্প্রচার করে বিবিসি। জার্মান রেডিওর ঘোষণায় হিটলারের মৃত্যুর খবরের সাথে বলা হয়, হিটলার জার্মানির হয়ে বলশেভিকদের সাথে লড়াই করতে করতে মারা গেছেন।

হিটলার আর জীবিত নেই – এ খবর তখন পাওয়া গেলেও তার অনেক পরে জানা যায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। হিটলারের শেষ সময় তার সাথে বাংকারে অবস্থান করা তার সহচরদের সাক্ষাৎকার এবং হিটলারকে নিয়ে হওয়া বহু গবেষণার ভিত্তিতে তার আত্মহত্যার বিষয়টিকে ঐতিহাসিকভাবে সত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু তার লাশ কোথায় এবং তা নিয়ে কী করা হয়েছে, সে বিষয়ে আজও মতভেদ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

হিটলারের মৃত্যুর ৪৮ বছর পর, ১৯৯৩ সালে প্রথমবার রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয় যে তার লাশ তাদের কাছে রয়েছে। তারও ৭ বছর পর ২০০০ সালে মস্কোতে এক প্রদর্শনীতে হিটলারের মাথার খুলির একাংশ দেখানোর দাবি করা হয়। তবে জার্মান ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক ও হিটলার বিশেষজ্ঞ ওয়ার্নার মেইসার সবসময়ই এই দাবিকে ‘ভুয়া’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হওয়া ‘হিটলারের ডায়েরি’র বিষয়বস্তুকেও ‘জাল’ দাবি করা প্রথম বিশেষজ্ঞ ছিলেন মেইসার। পরে হিটলারের ডায়েরি ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়।

ইউরোপে যুদ্ধ যখন শেষদিকে এবং সোভিয়েত বাহিনী জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রায় ঢুকে পড়েছে, তখন হিটলার তার কাছের লোকদের নিয়ে বার্লিনের একটি বাংকারে আশ্রয় নেন। ওই বাংকারে হিটলারের সাথে ছিলেন তার সেক্রেটারি ট্রাউডল ইয়ুঙ্গে। ইয়ুঙ্গে ১৯৪৩ সালে ২২ বছর বয়সে জার্মান চ্যান্সেলারিতে টাইপিস্ট হিসেবে যোগ দেন এবং সেখান থেকেই হিটলারের সেক্রেটারি হিসেবে কাজের সুযোগ পান। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি তখন ২২ বছর বয়সী এক তরুণী। আমি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ খুঁজছিলাম। আমার বোন তখন বার্লিনে নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করছিল। আমি তখন রাইখস চ্যান্সেলারিতে সেক্রেটারি হিসেবে টাইপিস্টের চাকরির সুযোগ পাই এবং তা গ্রহণ করি।’