ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে স্থবিরতা: আটকা ২০ হাজার নাবিক ও ২ হাজার জাহাজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বারে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বিমা সংক্রান্ত জটিলতায় বর্তমানে প্রায় দুই হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই স্থবিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে।

গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিমা কোম্পানিগুলো এই রুটকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করার পর ট্যাংকার জাহাজের ‘যুদ্ধ ঝুঁকি বিমা’ বাতিল করে দেয়। বিমা সুবিধা না থাকায় জাহাজগুলো চলাচলের অনুমতি পেলেও বাস্তবে যাত্রা শুরু করতে পারছে না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে জলপথে পেতে রাখা নৌ-মাইনগুলো পরিষ্কার করে রুটটি পুরোপুরি নিরাপদ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক বা সামরিক কোনো স্থায়ী সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই বিমা খরচ এবং অনিশ্চয়তা কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ওমান উপসাগরে ইরানি কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যাতে ২৮ জন ইরানি নাবিক ছিলেন। ইরান এই ঘটনাকে ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিলেও নাবিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে ইতিমধ্যে ৬ জন নাবিক মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন। তবে এখনো বাকি ২২ জন নাবিক যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের মুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ২৬৪৫, আহত ১২ হাজারেরও বেশি

হরমুজ প্রণালিতে স্থবিরতা: আটকা ২০ হাজার নাবিক ও ২ হাজার জাহাজ

আপডেট সময় : ১২:২৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বারে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বিমা সংক্রান্ত জটিলতায় বর্তমানে প্রায় দুই হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই স্থবিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে।

গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিমা কোম্পানিগুলো এই রুটকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করার পর ট্যাংকার জাহাজের ‘যুদ্ধ ঝুঁকি বিমা’ বাতিল করে দেয়। বিমা সুবিধা না থাকায় জাহাজগুলো চলাচলের অনুমতি পেলেও বাস্তবে যাত্রা শুরু করতে পারছে না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে জলপথে পেতে রাখা নৌ-মাইনগুলো পরিষ্কার করে রুটটি পুরোপুরি নিরাপদ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক বা সামরিক কোনো স্থায়ী সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই বিমা খরচ এবং অনিশ্চয়তা কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ওমান উপসাগরে ইরানি কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যাতে ২৮ জন ইরানি নাবিক ছিলেন। ইরান এই ঘটনাকে ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিলেও নাবিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে ইতিমধ্যে ৬ জন নাবিক মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন। তবে এখনো বাকি ২২ জন নাবিক যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের মুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।