প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে গত দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম। এতে জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হয়েছে অন্ধকারে বা মোমবাতির আলোয়। ঝড়ের কারণে পল্লী বিদ্যুতের অসংখ্য খুঁটি উপড়ে গেছে, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়েছে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী জানিয়েছেন, ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় মোট ৭১টি খুঁটি ভেঙেছে, ১০২৫টি স্থানে বিদ্যুতের তারের উপর গাছ পড়েছে, ৫৫০টি মিটার ভেঙে গেছে এবং ৭৩৮টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। এতে প্রায় ২৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অনেক পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোয় পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়াও, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে।
পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেরামত কাজে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হতে পারে। তবে যেসব এলাকায় খুঁটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, সেখানে মেরামতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। বরুড়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম রীশু কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় ৮টি খুঁটি ভেঙে গেছে, ৩০০টি গাছ উপড়ে পড়েছে এবং প্রায় ৩০০ জায়গায় তার ছিঁড়ে গেছে। এর ফলে প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত আকারে দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















