ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ড. সুদীপ চক্রবর্তীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘকাল ধরে বিভাগের কিছু শিক্ষকের মানসিক ও ব্যক্তিগত নিপীড়নের পরিবেশই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহিন বলেন, “আজকের এই আয়োজনের সঙ্গে আমি একাত্মতা প্রকাশ করছি। তবে বড় বড় স্লোগান দিয়ে লাভ নেই, আমাদের সবারই নিজের দিকে তাকানো উচিত। ছাত্র-শিক্ষক সবাইকে আত্মসমালোচনা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৯৫ সালে পার্টটাইম শিক্ষক হিসেবে এই বিভাগে যোগ দিয়েছি। এই বিভাগ আমরা তৈরি করেছি। যদি কোনো অভিযোগ থাকে, সেগুলো সামনে আসুক। আমরা এখানে আছি, প্রতিদিন থাকবো। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত হোক। এখানে কোনো ধরনের ইন্টারফেয়ারেন্সের ঝুঁকি নেই, এটা আমরা আশ্বস্ত করতে পারি। দীর্ঘদিনের শোষণ বা নিপীড়নের অভিযোগ থাকলে সেটাও আমাদের আত্মসমালোচনার জায়গা। সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে যে উগ্রতা তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় আমাদের বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, যাতে প্রতিপক্ষ এই সুযোগে সাংস্কৃতিক বিভাগগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ বা বন্ধ করার চেষ্টা করে।”
বিভাগের শিক্ষার্থী আনিয়া আক্তার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত ও মানসিক নিপীড়নের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মিমোর অকালমৃত্যু সেই বাস্তবতারই একটি পরিণতি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই।” তিনি ক্যাম্পাসে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হওয়া উচিত সম্মান ও স্নেহের ভিত্তিতে। কিন্তু বাস্তবে অনেক শিক্ষক আমাদের সেই সম্মান দেন না; বরং আমাদের দাসের মতো ব্যবহার করেন।”
রিপোর্টারের নাম 
























