ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

জাতিসংঘে ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের তীব্র বাদানুবাদ

জাতিসংঘে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সোমবার নিউইয়র্কে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে ইরানকে সহ-সভাপতিদের একজন হিসেবে মনোনীত করার পর যুক্তরাষ্ট্র এর কঠোর সমালোচনা করেছে।

১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) ১১তম পর্যালোচনা সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের গ্রুপ থেকে মোট ৩৪ জন সহ-সভাপতি মনোনয়ন দেওয়া হয়। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ডো হুং ভিয়েত, যিনি সম্মেলনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি জানান যে নিরপেক্ষ জোটভুক্ত ও অন্যান্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে এই পদে মনোনীত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়ো এই সিদ্ধান্তকে ‘এনপিটির বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে ইরান দীর্ঘকাল ধরে চুক্তির অঙ্গীকারকে অবজ্ঞা করেছে এবং জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করেনি। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত লজ্জাজনক এবং সম্মেলনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বিব্রতকর।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় (আইএইএ) ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, যে দেশ একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এখনো তার ভাণ্ডার আধুনিকায়ন করছে, তাদের পক্ষে অন্যদের বিচারক হওয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও, সাম্প্রতিক দুই মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও স্পষ্ট করেছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে পশ্চিমা দেশগুলো আশঙ্কা করছে যে এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরির পথে ব্যবহার হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ইরান একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে চলমান সংঘাত নিরসন না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নবীনগরে মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা

জাতিসংঘে ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের তীব্র বাদানুবাদ

আপডেট সময় : ১২:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

জাতিসংঘে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সোমবার নিউইয়র্কে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে ইরানকে সহ-সভাপতিদের একজন হিসেবে মনোনীত করার পর যুক্তরাষ্ট্র এর কঠোর সমালোচনা করেছে।

১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) ১১তম পর্যালোচনা সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের গ্রুপ থেকে মোট ৩৪ জন সহ-সভাপতি মনোনয়ন দেওয়া হয়। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ডো হুং ভিয়েত, যিনি সম্মেলনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি জানান যে নিরপেক্ষ জোটভুক্ত ও অন্যান্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে এই পদে মনোনীত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়ো এই সিদ্ধান্তকে ‘এনপিটির বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে ইরান দীর্ঘকাল ধরে চুক্তির অঙ্গীকারকে অবজ্ঞা করেছে এবং জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করেনি। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত লজ্জাজনক এবং সম্মেলনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বিব্রতকর।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় (আইএইএ) ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, যে দেশ একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এখনো তার ভাণ্ডার আধুনিকায়ন করছে, তাদের পক্ষে অন্যদের বিচারক হওয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও, সাম্প্রতিক দুই মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও স্পষ্ট করেছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে পশ্চিমা দেশগুলো আশঙ্কা করছে যে এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরির পথে ব্যবহার হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ইরান একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে চলমান সংঘাত নিরসন না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।