ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড

আগামী মঙ্গলবার, আগারগাঁওস্থ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে যথাযথ মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন উচ্চ পদস্থ সামরিক ও অসামরিক অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা, নাবিক এবং অসামরিক ব্যক্তিবর্গের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ১৪ জনকে পদক প্রদান করবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক পাচ্ছেন চারজন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক চারজন, প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক তিনজন এবং প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক পাচ্ছেন তিনজন।

১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের সুবিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সম্ভাবনাকে সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে এই বাহিনী গঠনের আইনি ভিত্তি প্রণয়ন করেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এই বাহিনীর গোড়াপত্তন হয় এবং ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তাঁর প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। জনগণের প্রত্যাশা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই বাহিনী প্রায় তিন দশক ধরে অদম্য দেশপ্রেম, অটুট নিষ্ঠা, প্রশ্নাতীত পেশাদারিত্ব ও অসীম সাহসিকতার সাথে উপকূল ও নদীতীরবর্তী মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ঐতিহাসিক এই পথচলায় বর্তমানে চারটি জোনে বিভক্ত হয়ে কোস্ট গার্ড ৬৩টি স্টেশন/আউটপোস্ট, ২৮টি জাহাজ এবং ১৩৮টি দ্রুতগামী বোটের মাধ্যমে দেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্র ও ২১ জেলার উপকূল ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণ, বন্দর সমূহের নিরাপত্তা, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, দুর্যোগকালীন উদ্ধার ও সহায়তা এবং দস্যুতা দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিগত বছরে প্রায় ২০ হাজার ১৫২ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ জাল ও জাটকা জব্দ করেছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবৈধ জালের কারখানা ধ্বংস করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই এবার আপনার স্বপ্নের নিয়ন্ত্রণ নেবে: কল্পবিজ্ঞান যখন বাস্তব

৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড

আপডেট সময় : ০৭:০২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

আগামী মঙ্গলবার, আগারগাঁওস্থ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে যথাযথ মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন উচ্চ পদস্থ সামরিক ও অসামরিক অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা, নাবিক এবং অসামরিক ব্যক্তিবর্গের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ১৪ জনকে পদক প্রদান করবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক পাচ্ছেন চারজন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক চারজন, প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক তিনজন এবং প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক পাচ্ছেন তিনজন।

১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের সুবিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সম্ভাবনাকে সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে এই বাহিনী গঠনের আইনি ভিত্তি প্রণয়ন করেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এই বাহিনীর গোড়াপত্তন হয় এবং ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তাঁর প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। জনগণের প্রত্যাশা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই বাহিনী প্রায় তিন দশক ধরে অদম্য দেশপ্রেম, অটুট নিষ্ঠা, প্রশ্নাতীত পেশাদারিত্ব ও অসীম সাহসিকতার সাথে উপকূল ও নদীতীরবর্তী মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ঐতিহাসিক এই পথচলায় বর্তমানে চারটি জোনে বিভক্ত হয়ে কোস্ট গার্ড ৬৩টি স্টেশন/আউটপোস্ট, ২৮টি জাহাজ এবং ১৩৮টি দ্রুতগামী বোটের মাধ্যমে দেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্র ও ২১ জেলার উপকূল ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণ, বন্দর সমূহের নিরাপত্তা, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, দুর্যোগকালীন উদ্ধার ও সহায়তা এবং দস্যুতা দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিগত বছরে প্রায় ২০ হাজার ১৫২ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ জাল ও জাটকা জব্দ করেছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবৈধ জালের কারখানা ধ্বংস করেছে।