২০০৬ সাল। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিদেশ সফর করার এক গভীর ইচ্ছা পোষণ করতেন তৎকালীন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। দীর্ঘদিনের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে দুটি বড় বাধা ছিল। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গী হিসেবে ‘বিশিষ্ট নাগরিক’ কোটায় মাত্র দুজনকে নিতেন, যার মধ্যে একজন থাকতেন জেলা প্রশাসক। রাজনৈতিক বিবেচনায় সুযোগ পেতেন মাত্র একজন। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কোনো বিশেষ ব্যক্তি প্রায়শই প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হতেন।
আল্লাহর রহমতে, হঠাৎ করেই একটি সুযোগ এসে গেল। হাইকোর্ট বিভাগের দুই বিচারপতি তাদের এক রায়ে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেন। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তৎক্ষণাৎ তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এ. জে. মোহাম্মদ আলীকে আপিল দায়ের ও শুনানির নির্দেশ দেন। আইনজীবীদের একটি দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মাধ্যমে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকেও এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত করা হয়। সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রাত দেড়টায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে খালেদা জিয়া বাসভবনে ফেরেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্য লাভের সুযোগ তৈরি হয় এবং পরবর্তী বিদেশ সফরে তাকে সফরসঙ্গী করার নির্দেশ আসে।
পরবর্তী সফরটি ছিল দুবাই এবং সৌদি আরব। সেখানে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, দুর্ভাগ্যবশত দেশের ৬৩ জেলার আদালত প্রাঙ্গণে একযোগে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর দুবাই ও সৌদি আরব সফর বাতিল হয়ে যায়। এরপর পাকিস্তান সফর নির্ধারিত হয়। ২০০৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক তাকে ফোন করে পাকিস্তান সফরের কথা জানান। সেদিন বিকালেই তিনি ডিউক ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অনুরোধ করেন, সফরটি কোনো ইউরোপীয় দেশে পরিবর্তন করা যায় কিনা। ডিউক ভাই জানান, সফরসঙ্গীদের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই চূড়ান্ত হয় এবং পরিবর্তন করতেও তার অনুমতি প্রয়োজন। এতে তিনি বিরক্ত হতে পারেন। এছাড়া, সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় বিগত সফরের মতো কোনো সফর বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। ডিউক ভাইয়ের যুক্তি মেনে নেন তিনি।
২০০৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, পাকিস্তান সফরের উদ্দেশ্যে তিনি যাত্রা করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















