ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধে ৬০ দেশের বৈশ্বিক সম্মেলন, যুক্তরাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি

কলম্বিয়ার সান্তা মারতা শহরে প্রায় ৬০টি দেশের মন্ত্রীরা জীবাশ্ম জ্বালানি ধাপে ধাপে বন্ধ করার লক্ষ্যে এক অভূতপূর্ব বৈশ্বিক সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।

জ্বালানি সংকটের ফলে বিভিন্ন দেশে জ্বালানির ঘাটতি, মূল্যবৃদ্ধি, রেশনিং, কর্মঘণ্টা কমানো এবং ভ্রমণের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীর অস্থিতিশীলতা, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, অনেক দেশকে তাদের আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করছে। যদিও কিছু দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা ভাবছে, অন্যরা আবার কয়লার মতো নিজস্ব জ্বালানি উৎসের দিকে ঝুঁকছে।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু আলোচনায় জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনেও যুক্তরাষ্ট্র অনুপস্থিত ছিল। সেখানে ৮০টি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসার রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হলেও সৌদি আরবসহ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বাধার মুখে তা বাস্তবায়ন থমকে যায়।

বর্তমান সম্মেলনটি কলম্বিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নেতৃত্বে আয়োজিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য জীবাশ্ম জ্বালানি ত্যাগে আগ্রহী দেশগুলোর একটি জোট গঠন করা। এতে তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলো অংশ নিচ্ছে। কানাডা, নাইজেরিয়া, নরওয়ে ও ব্রাজিলের মতো বড় জ্বালানি উৎপাদক দেশও অংশগ্রহণ করছে। তবে চীন, ভারত, রাশিয়া, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এতে অংশ নিচ্ছে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংরক্ষিত নারী আসন: ৪৯ প্রার্থীর বৈধ তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন

জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধে ৬০ দেশের বৈশ্বিক সম্মেলন, যুক্তরাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

কলম্বিয়ার সান্তা মারতা শহরে প্রায় ৬০টি দেশের মন্ত্রীরা জীবাশ্ম জ্বালানি ধাপে ধাপে বন্ধ করার লক্ষ্যে এক অভূতপূর্ব বৈশ্বিক সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।

জ্বালানি সংকটের ফলে বিভিন্ন দেশে জ্বালানির ঘাটতি, মূল্যবৃদ্ধি, রেশনিং, কর্মঘণ্টা কমানো এবং ভ্রমণের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীর অস্থিতিশীলতা, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, অনেক দেশকে তাদের আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করছে। যদিও কিছু দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা ভাবছে, অন্যরা আবার কয়লার মতো নিজস্ব জ্বালানি উৎসের দিকে ঝুঁকছে।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু আলোচনায় জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনেও যুক্তরাষ্ট্র অনুপস্থিত ছিল। সেখানে ৮০টি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসার রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হলেও সৌদি আরবসহ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বাধার মুখে তা বাস্তবায়ন থমকে যায়।

বর্তমান সম্মেলনটি কলম্বিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নেতৃত্বে আয়োজিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য জীবাশ্ম জ্বালানি ত্যাগে আগ্রহী দেশগুলোর একটি জোট গঠন করা। এতে তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলো অংশ নিচ্ছে। কানাডা, নাইজেরিয়া, নরওয়ে ও ব্রাজিলের মতো বড় জ্বালানি উৎপাদক দেশও অংশগ্রহণ করছে। তবে চীন, ভারত, রাশিয়া, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এতে অংশ নিচ্ছে না।