ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি: উচ্চ মুনাফার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আবশ্যকতা

একটি রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা খাতকে মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এই মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন বা বাজেট অত্যন্ত জরুরি। প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার সময় শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় প্রাপ্ত বরাদ্দ প্রায়শই অপূর্ণ থেকে যায়। দৃশ্যমান ভৌত অবকাঠামো যেমন সেতু বা মেট্রোরেলের উন্নয়নের পাশাপাশি, একটি জাতির ‘অদৃশ্য অবকাঠামো’ অর্থাৎ মেধা ও মনন বিকাশের জন্য শিক্ষা খাতের বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এখন সবচেয়ে জরুরি দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউনেসকো এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মতে, একটি উন্নয়নশীল দেশের টেকসই অগ্রগতির জন্য জিডিপির অন্তত ৪ থেকে ৬ শতাংশ অথবা বাজেটের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে, বিগত এক দশক ধরে বাংলাদেশের শিক্ষায় এই বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভুটান, এমনকি মালদ্বীপও জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের চেয়ে শিক্ষায় বেশি বরাদ্দ রাখে। যখন একটি রাষ্ট্র মেধা তৈরিতে তার সম্পদের নগণ্য অংশ ব্যয় করে, তখন দীর্ঘ মেয়াদে ‘মেধাশূন্যতা’ বা ‘ব্রেইন ড্রেইন’-এর মতো চরম সংকটের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বরাদ্দের এই স্বল্পতার পাশাপাশি ব্যয়ের খাত নিয়েও রয়েছে কাঠামোগত দুর্বলতা। বর্তমানে শিক্ষা বাজেটের সিংহভাগই ব্যয় হয় ভবন নির্মাণ, আসবাবপত্র ক্রয় এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার মতো খাতে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য অপরিহার্য গবেষণা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং উন্নত ল্যাবরেটরি স্থাপনে বরাদ্দ একেবারেই নগণ্য। জিপিএ ৫-এর মোড়কে বন্দি শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়; প্রয়োজন প্রকৃত দক্ষ জনশক্তি। আর্থিক ও সামাজিক সংকটের কারণে মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না। শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক স্বতন্ত্র বেতন-কাঠামো এবং গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত না করলে শিক্ষার এই গুণগত রূপান্তর কখনোই সম্ভব হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের চিত্র আরও হতাশাজনক; বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে থাকার প্রধান কারণ ‘গবেষণা ফান্ডের অপ্রতুলতা’।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত দফার নির্বাচন: শেষ দিনের প্রচারণায় তারকার হাট ও রাজনৈতিক উত্তাপ

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি: উচ্চ মুনাফার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আবশ্যকতা

আপডেট সময় : ১১:৩১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

একটি রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা খাতকে মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এই মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন বা বাজেট অত্যন্ত জরুরি। প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার সময় শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় প্রাপ্ত বরাদ্দ প্রায়শই অপূর্ণ থেকে যায়। দৃশ্যমান ভৌত অবকাঠামো যেমন সেতু বা মেট্রোরেলের উন্নয়নের পাশাপাশি, একটি জাতির ‘অদৃশ্য অবকাঠামো’ অর্থাৎ মেধা ও মনন বিকাশের জন্য শিক্ষা খাতের বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এখন সবচেয়ে জরুরি দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউনেসকো এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মতে, একটি উন্নয়নশীল দেশের টেকসই অগ্রগতির জন্য জিডিপির অন্তত ৪ থেকে ৬ শতাংশ অথবা বাজেটের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে, বিগত এক দশক ধরে বাংলাদেশের শিক্ষায় এই বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভুটান, এমনকি মালদ্বীপও জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের চেয়ে শিক্ষায় বেশি বরাদ্দ রাখে। যখন একটি রাষ্ট্র মেধা তৈরিতে তার সম্পদের নগণ্য অংশ ব্যয় করে, তখন দীর্ঘ মেয়াদে ‘মেধাশূন্যতা’ বা ‘ব্রেইন ড্রেইন’-এর মতো চরম সংকটের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বরাদ্দের এই স্বল্পতার পাশাপাশি ব্যয়ের খাত নিয়েও রয়েছে কাঠামোগত দুর্বলতা। বর্তমানে শিক্ষা বাজেটের সিংহভাগই ব্যয় হয় ভবন নির্মাণ, আসবাবপত্র ক্রয় এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার মতো খাতে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য অপরিহার্য গবেষণা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং উন্নত ল্যাবরেটরি স্থাপনে বরাদ্দ একেবারেই নগণ্য। জিপিএ ৫-এর মোড়কে বন্দি শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়; প্রয়োজন প্রকৃত দক্ষ জনশক্তি। আর্থিক ও সামাজিক সংকটের কারণে মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না। শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক স্বতন্ত্র বেতন-কাঠামো এবং গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত না করলে শিক্ষার এই গুণগত রূপান্তর কখনোই সম্ভব হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের চিত্র আরও হতাশাজনক; বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে থাকার প্রধান কারণ ‘গবেষণা ফান্ডের অপ্রতুলতা’।