ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ভূমিহীনদের খাসজমি দেওয়ার আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর, উচ্ছেদ চেষ্টাকে ‘অন্যায়’ বললেন

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু মাত্র চার ঘণ্টার নোটিশে দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের চেষ্টাকে ‘অন্যায় ও চক্রান্তমূলক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, ৪০-৪৫ বছর ধরে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুক্রবার দুপুরে মহানগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উচ্ছেদ করতে হলে অন্তত ছয়-সাত দিন সময় দিতে হবে। তা না করে হঠাৎ করে ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়াটা একজন মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত অন্যায় মনে করেন। তিনি জানান, অতীতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার ব্যর্থতার কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের পাশে থাকা তার নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় সাবেক সরকারের আমলে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের কঠোর সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় লিটন, শাহু ও সাচ্চুর মতো ভূমিদস্যুরা জনগণের এই সম্পদ দখলের চেষ্টা করেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ৭০ বছর আগের মালিকানা দাবি দেখিয়ে অর্পিত সম্পত্তি দখল করার কোনো সুযোগ নেই। ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিরোধে আইনি লড়াই জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্থানীয় আইনজীবীদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দেন।

খাসজমি প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকা খাসজমি যাতে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টন করা হয়, সে বিষয়ে সরকার আন্তরিক। প্রয়োজনে প্রতিটি পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে, এ ঘটনার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। এর আগে, একইদিন সকাল ১০টায় ভূমিমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। পরে মন্ত্রী নিজে তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশেদ প্রধানের বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে জাগপার বিক্ষোভ

ভূমিহীনদের খাসজমি দেওয়ার আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর, উচ্ছেদ চেষ্টাকে ‘অন্যায়’ বললেন

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু মাত্র চার ঘণ্টার নোটিশে দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের চেষ্টাকে ‘অন্যায় ও চক্রান্তমূলক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, ৪০-৪৫ বছর ধরে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুক্রবার দুপুরে মহানগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উচ্ছেদ করতে হলে অন্তত ছয়-সাত দিন সময় দিতে হবে। তা না করে হঠাৎ করে ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়াটা একজন মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত অন্যায় মনে করেন। তিনি জানান, অতীতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার ব্যর্থতার কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের পাশে থাকা তার নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় সাবেক সরকারের আমলে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের কঠোর সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় লিটন, শাহু ও সাচ্চুর মতো ভূমিদস্যুরা জনগণের এই সম্পদ দখলের চেষ্টা করেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ৭০ বছর আগের মালিকানা দাবি দেখিয়ে অর্পিত সম্পত্তি দখল করার কোনো সুযোগ নেই। ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিরোধে আইনি লড়াই জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্থানীয় আইনজীবীদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দেন।

খাসজমি প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকা খাসজমি যাতে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টন করা হয়, সে বিষয়ে সরকার আন্তরিক। প্রয়োজনে প্রতিটি পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে, এ ঘটনার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। এর আগে, একইদিন সকাল ১০টায় ভূমিমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। পরে মন্ত্রী নিজে তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।