ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

শখের বাইক ও গবাদিপশু বিক্রি করে সেতু নির্মাণ করলেন দিনমজুর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার জোনাইডাঙ্গা গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল বুড়ি তিস্তা নদীর একটি খালের ওপর সেতু। সরকারি দপ্তরে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় গ্রামবাসীর দুর্ভোগ ছিল চরমে। অবশেষে সেই দুর্ভোগ নিরসনে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আব্দুল করিম নামের এক কুলি। নিজের সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে তিনি তৈরি করে দিলেন একটি টেকসই সেতু।

পেশায় দিনমজুর আব্দুল করিম দীর্ঘ ২৫ বছর মালামাল বহন করে একটি মোটরসাইকেল ও দুটি ছাগল কিনেছিলেন। জনস্বার্থে তিনি সেই শখের মোটরসাইকেল ও ছাগল বিক্রি করে দেন। তাতেও প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না হওয়ায় এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করেন। গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

আব্দুল করিমের এই মহৎ উদ্যোগে মুগ্ধ এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানান, আগে মুমূর্ষু রোগী বা স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াতে চরম কষ্ট হতো, এমনকি সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিতে না পারায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। একজন সামান্য আয়ের মানুষের এমন নিঃস্বার্থ ত্যাগ সমাজের সামর্থ্যবান ও জনপ্রতিনিধিদের জন্য এক অনন্য শিক্ষা হয়ে থাকবে। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে তৃপ্ত আব্দুল করিমও।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

শখের বাইক ও গবাদিপশু বিক্রি করে সেতু নির্মাণ করলেন দিনমজুর

আপডেট সময় : ১১:৫৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার জোনাইডাঙ্গা গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল বুড়ি তিস্তা নদীর একটি খালের ওপর সেতু। সরকারি দপ্তরে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় গ্রামবাসীর দুর্ভোগ ছিল চরমে। অবশেষে সেই দুর্ভোগ নিরসনে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আব্দুল করিম নামের এক কুলি। নিজের সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে তিনি তৈরি করে দিলেন একটি টেকসই সেতু।

পেশায় দিনমজুর আব্দুল করিম দীর্ঘ ২৫ বছর মালামাল বহন করে একটি মোটরসাইকেল ও দুটি ছাগল কিনেছিলেন। জনস্বার্থে তিনি সেই শখের মোটরসাইকেল ও ছাগল বিক্রি করে দেন। তাতেও প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না হওয়ায় এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করেন। গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

আব্দুল করিমের এই মহৎ উদ্যোগে মুগ্ধ এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানান, আগে মুমূর্ষু রোগী বা স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াতে চরম কষ্ট হতো, এমনকি সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিতে না পারায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। একজন সামান্য আয়ের মানুষের এমন নিঃস্বার্থ ত্যাগ সমাজের সামর্থ্যবান ও জনপ্রতিনিধিদের জন্য এক অনন্য শিক্ষা হয়ে থাকবে। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে তৃপ্ত আব্দুল করিমও।