ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

হামের টিকা আমদানিতে ব্যর্থতায় স্বৈরাচার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে শিশুদের হামের টিকা আমদানিতে ব্যর্থতার জন্য স্বৈরাচারী সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের সময় এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় হামের টিকা গত কয়েক বছর ধরে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর ফলে অনেক শিশুর জীবনহানি ঘটেছে। তবে, সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং হাম শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় কীট সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (গাজীপুর-৪) সালাহ উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সালাহ উদ্দিন তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন যে, দেশের চিকিৎসা খাতে একটি গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র সংক্রামক রোগের চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটসহ দেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে হাম শনাক্তকরণের ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে, হাম শনাক্তকরণের জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে এবং টিকা দেওয়ার পরেও রোগীদের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তিনি জানতে চান, এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, আমরা সকলে মিলে একটি স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সেই স্বৈরাচারের সময় এবং আমরা যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সমর্থন দিয়েছিলাম, সেই সরকারের সময়েও হামের টিকা গত কয়েক বছর ধরে আমদানি করা হয়নি। তিনি জানান, এই সমস্যা দেখা দেওয়ার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ইউনিসেফ বাংলাদেশকে এক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতা করেছে এবং তারা দ্রুত হামের টিকা পাঠিয়েছে। এর ফলে, সরকার প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছে এবং প্রায় ২ কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

হাম শনাক্তকরণ কিটের স্বল্পতার কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি সত্য যে টেস্ট কিটের স্বল্পতা রয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে অনেক কীট এসে পৌঁছেছে এবং কিছু কীট কাস্টমসে আটকে আছে, যা দ্রুত ছাড় করানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে, দুঃখজনকভাবে অনেক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে এবং তারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের উইকেট নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ কিউইরা, নজর সিরিজ জয়ে

হামের টিকা আমদানিতে ব্যর্থতায় স্বৈরাচার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৬:২১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে শিশুদের হামের টিকা আমদানিতে ব্যর্থতার জন্য স্বৈরাচারী সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের সময় এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় হামের টিকা গত কয়েক বছর ধরে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর ফলে অনেক শিশুর জীবনহানি ঘটেছে। তবে, সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং হাম শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় কীট সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (গাজীপুর-৪) সালাহ উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সালাহ উদ্দিন তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন যে, দেশের চিকিৎসা খাতে একটি গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র সংক্রামক রোগের চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটসহ দেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে হাম শনাক্তকরণের ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে, হাম শনাক্তকরণের জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে এবং টিকা দেওয়ার পরেও রোগীদের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তিনি জানতে চান, এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, আমরা সকলে মিলে একটি স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সেই স্বৈরাচারের সময় এবং আমরা যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সমর্থন দিয়েছিলাম, সেই সরকারের সময়েও হামের টিকা গত কয়েক বছর ধরে আমদানি করা হয়নি। তিনি জানান, এই সমস্যা দেখা দেওয়ার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ইউনিসেফ বাংলাদেশকে এক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতা করেছে এবং তারা দ্রুত হামের টিকা পাঠিয়েছে। এর ফলে, সরকার প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছে এবং প্রায় ২ কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

হাম শনাক্তকরণ কিটের স্বল্পতার কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি সত্য যে টেস্ট কিটের স্বল্পতা রয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে অনেক কীট এসে পৌঁছেছে এবং কিছু কীট কাস্টমসে আটকে আছে, যা দ্রুত ছাড় করানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে, দুঃখজনকভাবে অনেক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে এবং তারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।