দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশে আবারও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একসময় নিয়ন্ত্রণে থাকা এই সংক্রামক রোগটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় সরকার তড়িঘড়ি করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পর্যাপ্ত টিকার মজুত থাকলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে এই কর্মসূচি সফল হওয়া নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদানে অবহেলা বা গ্যাপ তৈরি হওয়ার কারণেই শিশুরা নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও এই রোগের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হাম অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তাই দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার মে মাসের পরিবর্তে ২০ এপ্রিল থেকেই এই বিশেষ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে এবং ছয় মাস বয়স থেকেই শিশুদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে প্রায় দুই কোটি ডোজ টিকা মজুত থাকলেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘মিক্সিং সিরিঞ্জ’। যেখানে প্রায় ২০ লাখ সিরিঞ্জ প্রয়োজন, সেখানে মজুত আছে মাত্র ৪৫ হাজার। এই বিশাল ঘাটতি স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা ও দূরদর্শিতার অভাবকেই ফুটিয়ে তুলছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু টিকা থাকলেই হবে না, তা প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের জোগান নিশ্চিত করতে না পারলে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
রিপোর্টারের নাম 





















