যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুরে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামারটি বর্তমানে জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে। এই বিশাল খামারের অব্যবহৃত জমিকে কাজে লাগিয়ে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়ে বক্তৃতাকালে তিনি খামারের বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই খামারটি একসময় সম্ভাবনার প্রতীক ছিল, কিন্তু বর্তমানে এর কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে অব্যবহৃত সম্পদ কাজে লাগানো যাবে এবং দেশের কৃষি শিক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই খামারটির মোট আয়তন প্রায় ১৫৭ একর। এর মধ্যে গবেষণা, বীজ উৎপাদন, বিভিন্ন ফসল চাষ, বাগান, পুকুর, রাস্তা ও অবকাঠামোর জন্য জমি ব্যবহৃত হলেও প্রায় ১৪.৭২ হেক্টর জমি বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। খামারটিতে প্রজনন, কৃষিতত্ত্ব, কীটতত্ত্ব, মৃত্তিকা ও রোগতত্ত্ব—এই পাঁচটি বিভাগে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও জনবল ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে তা ব্যাহত হচ্ছে। এখানে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও রয়েছে, যেখানে প্রায় ১২০ জন একসঙ্গে থাকা-খাওয়া ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব।
চৌগাছার মর্জাদ বাওড়, যা মৎস্য গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা বহন করে, তা খামারের পাশেই অবস্থিত। এছাড়া, খামারের পতিত জমিতে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি বিষয়ক গবেষণাও চালানো যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় সাংবাদিকরা মনে করেন, যশোর একটি উন্মুক্ত কৃষি উৎপাদন এলাকা এবং এখানকার আবহাওয়া কৃষি গবেষণা ও শিক্ষার জন্য খুবই উপযোগী। তাদের মতে, জগদীশপুর তুলা খামারেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হলে সরকারের ব্যয় কম হবে এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।
রিপোর্টারের নাম 



















