কুড়িগ্রামে এক অদম্য মায়ের নজিরবিহীন ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র তিন দিন বয়সী নবজাতককে রেখে দাখিল পরীক্ষা দিয়েছেন হাওয়া আক্তার নামের এক মা। এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন তুলেছে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার প্রতি এই নারীর অদম্য আগ্রহ একদিকে যেমন অন্যদের অনুপ্রাণিত করছে, তেমনই বাল্যবিবাহের নির্মম বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে।
জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদাহ ইউনিয়নের দরিদ্র কৃষক হযরত আলীর মেয়ে হাওয়া আক্তার স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে তার বিয়ে হয়, যার ফলে তার পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। গত ১৮ এপ্রিল তিনি প্রথম সন্তানের জন্ম দেন। মাত্র তিন দিন বয়সী নবজাতককে সঙ্গে নিয়েই গত মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন।
হাওয়া আক্তারের এই দৃঢ় মনোবলের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা প্রশংসিত হচ্ছে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষায় তার অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক। তবে একই সাথে, অল্প বয়সে বিয়ে এবং মাতৃত্বের মতো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া নিয়েও সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয় এক সমাজকর্মী বলেন, ‘মেয়েটির আগ্রহ দেখে আমরা অভিভূত। তার ইচ্ছা শক্তি তাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে এতো অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া এবং বাচ্চার মা হওয়া চরম ক্ষতিকর। এটি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
চিকিৎসকরাও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডা. সাইদুর রহমান বলেন, ‘সন্তান জন্মদানের পর মা ও শিশুকে কয়েকদিন বিশ্রামে রাখা প্রয়োজন। এ সময় শারীরিক ও মানসিক চাপ নেওয়া উচিত নয়। এই মেয়ের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা একেবারেই অসচেতনামূলক। অল্প বয়সে বাচ্চা নেওয়াই ঝুঁকিপূর্ণ, তার উপর আবার চাপ নিয়ে পরীক্ষা দেওয়া একদম অনুচিত।’ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মোহাম্মদ নুর বখত অবশ্য এটিকে ‘নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণাদায়ক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 























