ঢাকা ০৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মাদক মামলার আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত এএসআই, গণপিটুনি ও ভাইরাল ভিডিও

ফরিদপুরের সালথায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মাদক মামলার আসামির বাড়িতে গভীর রাতে ঢুকে তার স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকার অভিযোগে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। মো. ইমরান হাসান (৪০) নামে ওই এএসআইকে পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে ঘটে।

আহত এএসআই ইমরান বর্তমানে রামকান্তপুর ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে তিনি একটি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন, তবে মাদক মামলার আসামির পরিবারের অভিযোগ এটি পরকীয়ার ঘটনা। এই ঘটনার একটি ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় এএসআই ইমরান পুলিশের পোশাক ছাড়াই প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায় রয়েছেন। তার মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং মুখে রক্ত লেগে আছে। ভিডিওতে একজন ব্যক্তিকে তাকে মারতে দেখা যাচ্ছে এবং ইমরানকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘তুই আমার ভাই না, মারিস কেন?’ ভিডিও ধারণকারীর দাবি, ইমরানের পকেট থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বলিভদ্রদিয়া গ্রামের মো. মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সালথা ও পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। মাদক মামলার সূত্রে এএসআই ইমরান হাসান প্রায়শই মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসানের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এই সুবাদে মেহেদীর স্ত্রীর সাথে ইমরানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার রাতে যখন এএসআই ইমরান মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসানের বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রীর সঙ্গে একা দেখা করতে যান, তখন এলাকার লোকজন তাকে ধরে ফেলে এবং মারধর করে। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় এএসআই ইমরানকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে এএসআই ইমরান হাসানের দাবি, তিনি একটি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সাদা পোশাকে গভীর রাতে একা আসামির বাড়িতে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, তিনি একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং ব্যবসায়িক কাজে প্রায়ই বাইরে থাকেন। এই সুযোগে এএসআই ইমরান তার বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ, ৭ জন আটক

মাদক মামলার আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত এএসআই, গণপিটুনি ও ভাইরাল ভিডিও

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুরের সালথায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মাদক মামলার আসামির বাড়িতে গভীর রাতে ঢুকে তার স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকার অভিযোগে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। মো. ইমরান হাসান (৪০) নামে ওই এএসআইকে পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে ঘটে।

আহত এএসআই ইমরান বর্তমানে রামকান্তপুর ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে তিনি একটি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন, তবে মাদক মামলার আসামির পরিবারের অভিযোগ এটি পরকীয়ার ঘটনা। এই ঘটনার একটি ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় এএসআই ইমরান পুলিশের পোশাক ছাড়াই প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায় রয়েছেন। তার মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং মুখে রক্ত লেগে আছে। ভিডিওতে একজন ব্যক্তিকে তাকে মারতে দেখা যাচ্ছে এবং ইমরানকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘তুই আমার ভাই না, মারিস কেন?’ ভিডিও ধারণকারীর দাবি, ইমরানের পকেট থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বলিভদ্রদিয়া গ্রামের মো. মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সালথা ও পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। মাদক মামলার সূত্রে এএসআই ইমরান হাসান প্রায়শই মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসানের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এই সুবাদে মেহেদীর স্ত্রীর সাথে ইমরানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার রাতে যখন এএসআই ইমরান মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসানের বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রীর সঙ্গে একা দেখা করতে যান, তখন এলাকার লোকজন তাকে ধরে ফেলে এবং মারধর করে। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় এএসআই ইমরানকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে এএসআই ইমরান হাসানের দাবি, তিনি একটি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সাদা পোশাকে গভীর রাতে একা আসামির বাড়িতে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, তিনি একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং ব্যবসায়িক কাজে প্রায়ই বাইরে থাকেন। এই সুযোগে এএসআই ইমরান তার বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।