ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

গাজায় প্রতিদিন গড়ে ৪৭ নারী-শিশু নিহত, জাতিসংঘের উদ্বেগ

জাতিসংঘের নারী সংস্থা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৪৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নিহত হচ্ছেন। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের ছয় মাস পরেও এই মৃত্যুর ধারা অব্যাহত রয়েছে।

জেনেভায় প্রকাশিত সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে গাজায় ৩৮ হাজারের বেশি নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির কর্মকর্তা সোফিয়া ক্যালটর্প বলেন, “গাজায় আগের সংঘাতগুলোর তুলনায় এবার নারী ও মেয়েদের মৃত্যুর হার অনেক বেশি। তারা প্রত্যেকেই স্বপ্ন ও জীবনের অধিকার নিয়ে বেঁচে ছিলেন।”

সংস্থাটি আরও জানায়, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও নারী ও মেয়েদের প্রাণহানি বন্ধ হয়নি। তবে লিঙ্গভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অভাবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি দুই বছরের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ থামালেও গাজার বড় একটি অংশ এখনো ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আর উপকূলীয় সংকীর্ণ অংশে হামাসের উপস্থিতি বজায় আছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ৭৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এদিকে ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজায় শিশু হতাহতের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে অব্যাহত রয়েছে এবং গত ছয় মাসে অন্তত ২১৪ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ১০ লাখ নারী ও মেয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির কারণে স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, পাঁচ লাখের বেশি নারী জরুরি স্বাস্থ্যসেবা—যেমন প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর সেবা এবং যৌনবাহিত সংক্রমণের চিকিৎসা—থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জালাল উদ্দিন এমপি

গাজায় প্রতিদিন গড়ে ৪৭ নারী-শিশু নিহত, জাতিসংঘের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৩:২১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

জাতিসংঘের নারী সংস্থা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৪৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নিহত হচ্ছেন। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের ছয় মাস পরেও এই মৃত্যুর ধারা অব্যাহত রয়েছে।

জেনেভায় প্রকাশিত সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে গাজায় ৩৮ হাজারের বেশি নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির কর্মকর্তা সোফিয়া ক্যালটর্প বলেন, “গাজায় আগের সংঘাতগুলোর তুলনায় এবার নারী ও মেয়েদের মৃত্যুর হার অনেক বেশি। তারা প্রত্যেকেই স্বপ্ন ও জীবনের অধিকার নিয়ে বেঁচে ছিলেন।”

সংস্থাটি আরও জানায়, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও নারী ও মেয়েদের প্রাণহানি বন্ধ হয়নি। তবে লিঙ্গভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অভাবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি দুই বছরের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ থামালেও গাজার বড় একটি অংশ এখনো ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আর উপকূলীয় সংকীর্ণ অংশে হামাসের উপস্থিতি বজায় আছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ৭৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এদিকে ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজায় শিশু হতাহতের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে অব্যাহত রয়েছে এবং গত ছয় মাসে অন্তত ২১৪ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ১০ লাখ নারী ও মেয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির কারণে স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, পাঁচ লাখের বেশি নারী জরুরি স্বাস্থ্যসেবা—যেমন প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর সেবা এবং যৌনবাহিত সংক্রমণের চিকিৎসা—থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।