ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘মশা নৌবহর’ : মার্কিন নৌবাহিনীকে চাপে রাখার কৌশল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি হলেও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে তেহরান। ছোট নৌযান ও দ্রুতগামী বোট ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে চাপে রাখছে ইরান। ‘মশা নৌবহর’ নামে পরিচিত এসব নৌযান লুকিয়ে থেকে অতর্কিত হামলা চালাতে সক্ষম।

‘মশা নৌবহর’ মূলত ছোট, দ্রুতগামী ও ক্ষিপ্র নৌকার একটি বহর, যা জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) মোতায়েন করা এই বহর ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনী থেকে আলাদা। উপকূলের গোপন কোনো স্থান বা এসব নৌকা থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে আইআরজিসি। এগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ঘোষণা দেন যে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করলেও তা পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে বলে জানান তিনি।

টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং গার্ডস বিশেষজ্ঞ সাঈদ গোলকার বলেন, ‘আইআরজিসি নৌবাহিনী সমুদ্রে অনেকটা গেরিলা বাহিনীর মতো কাজ করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আইআরজিসি বড় যুদ্ধজাহাজ ও চিরাচরিত নৌযুদ্ধের ওপর নির্ভর না করে, তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়।’

জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম এজেন্সি জানায়, যুদ্ধ চলাকালীন অন্তত ২০টি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছিল। গার্ডস নৌবাহিনী এই হামলাগুলোর দায় খুব কমই স্বীকার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো সম্ভবত স্থলভাগ থেকে ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার থেকে ছোড়া ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়েছিল, যা শনাক্ত করা কঠিন।

গত ৮ এপ্রিল, যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ইরানের প্রধান যুদ্ধজাহাজসহ নিয়মিত নৌবাহিনীর ৯০ শতাংশেরও বেশি নৌবহর সমুদ্রের তলদেশে ডুবে আছে। জেনারেল কেইন বলেন, গার্ডস নৌবাহিনীর আনুমানিক অর্ধেক দ্রুতগামী আক্রমণকারী বোটও ডুবে গেছে। তবে ঠিক কতগুলো ডুবে গেছে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জালাল উদ্দিন এমপি

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘মশা নৌবহর’ : মার্কিন নৌবাহিনীকে চাপে রাখার কৌশল

আপডেট সময় : ০৩:২০:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি হলেও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে তেহরান। ছোট নৌযান ও দ্রুতগামী বোট ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে চাপে রাখছে ইরান। ‘মশা নৌবহর’ নামে পরিচিত এসব নৌযান লুকিয়ে থেকে অতর্কিত হামলা চালাতে সক্ষম।

‘মশা নৌবহর’ মূলত ছোট, দ্রুতগামী ও ক্ষিপ্র নৌকার একটি বহর, যা জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) মোতায়েন করা এই বহর ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনী থেকে আলাদা। উপকূলের গোপন কোনো স্থান বা এসব নৌকা থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে আইআরজিসি। এগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ঘোষণা দেন যে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করলেও তা পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে বলে জানান তিনি।

টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং গার্ডস বিশেষজ্ঞ সাঈদ গোলকার বলেন, ‘আইআরজিসি নৌবাহিনী সমুদ্রে অনেকটা গেরিলা বাহিনীর মতো কাজ করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আইআরজিসি বড় যুদ্ধজাহাজ ও চিরাচরিত নৌযুদ্ধের ওপর নির্ভর না করে, তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়।’

জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম এজেন্সি জানায়, যুদ্ধ চলাকালীন অন্তত ২০টি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছিল। গার্ডস নৌবাহিনী এই হামলাগুলোর দায় খুব কমই স্বীকার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো সম্ভবত স্থলভাগ থেকে ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার থেকে ছোড়া ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়েছিল, যা শনাক্ত করা কঠিন।

গত ৮ এপ্রিল, যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ইরানের প্রধান যুদ্ধজাহাজসহ নিয়মিত নৌবাহিনীর ৯০ শতাংশেরও বেশি নৌবহর সমুদ্রের তলদেশে ডুবে আছে। জেনারেল কেইন বলেন, গার্ডস নৌবাহিনীর আনুমানিক অর্ধেক দ্রুতগামী আক্রমণকারী বোটও ডুবে গেছে। তবে ঠিক কতগুলো ডুবে গেছে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি।