ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি কেন সম্পন্ন হলো না, নেপথ্য কারণ জানালেন আরাগচি

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা কেন সফল হতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে, তার নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু ওয়াশিংটনের অনমনীয় অবস্থান এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে শেষ মুহূর্তে আলোচনা ভেস্তে যায়। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার কথা তুলে ধরেন।

আরাগচি উল্লেখ করেন, ইরান অত্যন্ত সদিচ্ছা নিয়ে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিয়েছিল। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর এমন পর্যায়ের আলোচনায় একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন পক্ষের নানামুখী চাপ এবং কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার মানসিকতা চূড়ান্ত সমঝোতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, সদিচ্ছার প্রতিদান যেমন সদিচ্ছা হওয়া উচিত, তেমনি বৈরী আচরণ কেবল শত্রুতাকেই দীর্ঘস্থায়ী করে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এই বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সুরেই কথা বলেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের একতরফা ও আধিপত্যবাদী মনোভাব পরিহার করে ইরানের ন্যায্য অধিকারকে সম্মান জানায়, তবেই ভবিষ্যতে কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ থাকবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই দুই দেশের মধ্যকার শীতল সম্পর্ক ও আলোচনার ব্যর্থতা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি কেন সম্পন্ন হলো না, নেপথ্য কারণ জানালেন আরাগচি

আপডেট সময় : ০৩:১৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা কেন সফল হতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে, তার নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু ওয়াশিংটনের অনমনীয় অবস্থান এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে শেষ মুহূর্তে আলোচনা ভেস্তে যায়। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার কথা তুলে ধরেন।

আরাগচি উল্লেখ করেন, ইরান অত্যন্ত সদিচ্ছা নিয়ে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিয়েছিল। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর এমন পর্যায়ের আলোচনায় একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন পক্ষের নানামুখী চাপ এবং কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার মানসিকতা চূড়ান্ত সমঝোতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, সদিচ্ছার প্রতিদান যেমন সদিচ্ছা হওয়া উচিত, তেমনি বৈরী আচরণ কেবল শত্রুতাকেই দীর্ঘস্থায়ী করে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এই বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সুরেই কথা বলেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের একতরফা ও আধিপত্যবাদী মনোভাব পরিহার করে ইরানের ন্যায্য অধিকারকে সম্মান জানায়, তবেই ভবিষ্যতে কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ থাকবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই দুই দেশের মধ্যকার শীতল সম্পর্ক ও আলোচনার ব্যর্থতা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।