শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি রংপুরের অদম্য তরুণী কলি রানীকে। জন্ম থেকেই দুই হাত অচল হলেও নিজের মেধা ও অবিশ্বাস্য ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে পা দিয়ে লিখে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের মুখ দেখেছেন তিনি। জিপিএ-৩.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে কাউনিয়া কলেজের এই শিক্ষার্থী প্রমাণ করেছেন, মনোবল থাকলে প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।
কাউনিয়া উপজেলার হরিশ্বর গ্রামের বাসিন্দা কলির জীবনসংগ্রাম জন্ম থেকেই শুরু। অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ না পেলেও পড়াশোনার ব্যাপারে ছিলেন অবিচল। হাত ব্যবহার করতে না পেরে ডান পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম গুঁজে লেখার অনুশীলন শুরু করেন। সেই পা-ই শেষ পর্যন্ত তার স্বপ্নপূরণের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে। কলির এই সাফল্যে আনন্দিত পরিবার ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা।
কলির লক্ষ্য এখন আরও অনেক দূর। ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করতে চান তিনি। কলির মা ঝুপালী রানী জানান, বাবা হারানো এই মেধাবী মেয়ের উচ্চশিক্ষার খরচ চালানো তাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। তাই মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।


























