দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পৃথক অভিযানে ১৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৮ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ ও ৯৪০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ৪২ বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধীনস্থ বিভিন্ন বিওপির সদস্যরা এসব অভিযান পরিচালনা করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী পঁচাপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় কিশোরীগঞ্জ বিওপির একটি টহলদল। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, বিরল উপজেলার বেতুড়া গ্রামের লাইচু (২৭), পঁচাপাড়া গ্রামের সাখাওয়াত (২৮), বিরল গ্রামের ওমর ফারুক (৩৫), বেতুড়া গ্রামের মাজেদুর রহমান (৩২) এবং গোপালপুর গ্রামের জাফরুল ইসলাম (২৩)।
পরে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামালসহ বিরল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই রাতে এনায়েতপুর, চাপসার ও চান্দেরহাট বিওপির সদস্যরা পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অভিযানে দিনাজপুরের বিরল এবং ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৮ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ ও ৯৪০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পরিবার ও সমাজের স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করে। সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান আপসহীন। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও সীমান্ত সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এসব অপরাধে জড়িত এবং পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

























