চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিতে যাচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। এ অনুদানের আওতায় বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য ৫০টিরও বেশি আধুনিক যানবাহন এবং ল্যান্ডফিল পরিচালনার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নগরে নির্মিত হবে আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল।
বুধবার (৪ নভেম্বর) নগর ভবনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে জাইকা প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত অনুদান প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) অনুমোদন দিয়েছে জাপান সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বর মাসে জাইকার সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল চট্টগ্রামে আসবে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে ফতেয়াবাদ নন্দীরহাট এলাকায় নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্লটে ১৮ একর এবং পার্শ্ববর্তী অন্য একটি প্লটে ১০ একর জমি রয়েছে।
জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিদেকি ওসাওয়া জানান, নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) দ্রুত প্রস্তুতের লক্ষ্যে নকশা ও প্রাক্কলন (বিওকিউ) তৈরিতে জাইকার কারিগরি সহায়তা দলের বিশেষজ্ঞরা চসিকের সঙ্গে কাজ করছেন।
চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন জাইকার অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আসন্ন সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে চসিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান ল্যান্ডফিল সাইটগুলোর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নেও জাইকার কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, জাইকা বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ বিন হোসেন এবং জাইকার বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য তাকাতোশি আরাই, হিরোফুমি মিয়োশি, সাতোশি হিগাশিনাকাগাওয়া ও প্রকৌশলী গোলাম সারওয়ার।
প্রস্তাবিত অনুদান ও কারিগরি সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

























