বরিশাল নগরীতে ৪৫ দিন বয়সী এক শিশুকন্যা চুরির পর ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষিকাসহ তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুটিকে নিখোঁজ হওয়ার ১৪ দিন পর উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা বৃষ্টি বেগম বাদী হয়ে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বরিশাল নগরীর রূপাতলী মওলানা ভাসানী সড়কের বাসিন্দা নাসিমা বেগম ওরফে নাসিমা কবিরাজ, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরবাড়ি এলাকার মৌরি আক্তার এবং তার বড় বোন ফাহমিদা। এর মধ্যে মৌরি আক্তার বরিশালের সাগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রূপাতলী এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সোহেল ও বৃষ্টি বেগম দম্পতির ৪৫ দিন বয়সী মেয়ে সাদিয়া নিখোঁজ হয়। শিশুটি ঘুমানো অবস্থায় প্রতিবেশি নাসিমা কবিরাজ তার মা বৃষ্টি বেগমকে একটি কাগজ পোড়ানোর কথা বলে পাশের বাড়ির পেছনে পাঠান। ফিরে এসে সন্তানকে দেখতে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মা।
ঘটনার পর ২২ অক্টোবর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন নাসিমা কবিরাজকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশু চুরির মূল রহস্য বেরিয়ে আসে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, নাসিমা কবিরাজ শিশুটিকে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে শিক্ষিকা মৌরি আক্তারের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মৌরি তার নিসন্তান বড় বোন ফাহমিদার কাছে শিশুটিকে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেন। পরে পুলিশের চাপে ফাহমিদা শিশুটিকে নিয়ে বরিশালের কোতোয়ালি মডেল থানায় উপস্থিত হন।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, মানবপাচার আইনে করা মামলায় তিন আসামিকে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দীর্ঘ ১৪ দিন পর নিজের সন্তানকে ফেরত পেয়ে কান্নাভেজা চোখে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দিনমজুর মা বৃষ্টি বেগম।
























