মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৬:৫২ অপরাহ্ন | ৪ঠা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১৯শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

আট বছর পর সাফ ফুটবল টুর্নামেন্ট: বাংলাদেশ কি প্রস্তুত?

  • হালনাগাদ সময় : ০৫:২৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আট বছর পর আবারও বাংলাদেশের মাটিতে ফিরছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। শিরোপার লড়াইয়ে নামছে ছয় দেশ। স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ঘরের মাঠে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সুযোগ। অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ঢাকার রাজপথ থেকে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় প্রত্যাশিত উত্তাপের দেখা মিলছে না। মাঠ প্রস্তুত হচ্ছে, দলগুলোও আসতে শুরু করেছে, কিন্তু কোথায় সেই ফুটবল উৎসবের আবহ?

আগামীকাল ৫ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। চলবে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত। ২০১৮ সালের পর আবারও এই প্রতিযোগিতার আয়োজক বাংলাদেশ। এবার অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। দীর্ঘ বিরতির পর এমন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পেলেও প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সাধারণত বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে আয়োজক দেশজুড়ে তৈরি করে উৎসবের আবহ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন, প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আয়োজন চোখে পড়ে। কিন্তু এবারের সাফকে ঘিরে ঢাকায় সেই পরিচিত দৃশ্য খুব একটা চোখে পড়ছে না। ট্রফি উন্মোচন কিংবা থিম সংয়ের প্রচারও সাধারণ দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। টিকিটের দাম নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য এক হাজার টাকা হওয়ায় অনেক দর্শকের কাছে মাঠে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ হচ্ছে না।

অবশ্য আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি একেবারে হয়নি, বিষয়টি তেমন নয়। গত ২৫ জুলাই ঢাকায় জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের লোগো ও পরিচিতি উন্মোচন করা হয়। পরে সেপ্টেম্বর মাসে সাফ বাণিজ্যিক ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান টিএসএ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টকে। সম্প্রচার সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে টি-স্পোর্টস এবং টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পেয়েছে টিকিফাই। আয়োজনের কাঠামো তৈরি হয়েছে, কিন্তু সেই আয়োজনের প্রচার সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কতটা পৌঁছেছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন!

টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা ও প্রচারের দায়িত্ব একাধিক প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলেও দর্শক টানার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ কতটা দৃশ্যমান, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আট বছর পর দেশের মাঠে সাফ আয়োজনের সুযোগকে ঘিরে যে বিপণন ও প্রচারণার প্রত্যাশা ছিল, বাস্তব চিত্রে তার প্রতিফলন কম।

আয়োজনের বাইরের এই প্রশ্নের মধ্যেই মাঠের লড়াই নিয়ে তৈরি হচ্ছে ভিন্ন সমীকরণ। স্বাগতিক বাংলাদেশকে এবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছে প্রতিপক্ষরাও। ভারতীয় দলের কোচ নওশাদ মুসা ঢাকায় এসে বাংলাদেশের শক্তিমত্তার প্রশংসা করেছেন। তার বিবেচনায়, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের দলই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী। ফাইনালে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হওয়ার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি মাঠে তার প্রতিফলন ঘটানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সাফের ইতিহাসে ভারত সবচেয়ে সফল দল। এখন পর্যন্ত নয়বার শিরোপা জিতেছে তারা। ১৯৯৩ সালে প্রথম শিরোপার দেখা পায় তারা।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আট বছর পর সাফ ফুটবল টুর্নামেন্ট: বাংলাদেশ কি প্রস্তুত?

04 November 2026

সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ: পুড়ল ওসির গাড়ি, আহত অর্ধশতাধিক

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

আট বছর পর সাফ ফুটবল টুর্নামেন্ট: বাংলাদেশ কি প্রস্তুত?

হালনাগাদ সময় : ০৫:২৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

আট বছর পর আবারও বাংলাদেশের মাটিতে ফিরছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। শিরোপার লড়াইয়ে নামছে ছয় দেশ। স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ঘরের মাঠে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সুযোগ। অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ঢাকার রাজপথ থেকে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় প্রত্যাশিত উত্তাপের দেখা মিলছে না। মাঠ প্রস্তুত হচ্ছে, দলগুলোও আসতে শুরু করেছে, কিন্তু কোথায় সেই ফুটবল উৎসবের আবহ?

আগামীকাল ৫ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। চলবে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত। ২০১৮ সালের পর আবারও এই প্রতিযোগিতার আয়োজক বাংলাদেশ। এবার অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। দীর্ঘ বিরতির পর এমন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পেলেও প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সাধারণত বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে আয়োজক দেশজুড়ে তৈরি করে উৎসবের আবহ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন, প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আয়োজন চোখে পড়ে। কিন্তু এবারের সাফকে ঘিরে ঢাকায় সেই পরিচিত দৃশ্য খুব একটা চোখে পড়ছে না। ট্রফি উন্মোচন কিংবা থিম সংয়ের প্রচারও সাধারণ দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। টিকিটের দাম নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য এক হাজার টাকা হওয়ায় অনেক দর্শকের কাছে মাঠে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ হচ্ছে না।

অবশ্য আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি একেবারে হয়নি, বিষয়টি তেমন নয়। গত ২৫ জুলাই ঢাকায় জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের লোগো ও পরিচিতি উন্মোচন করা হয়। পরে সেপ্টেম্বর মাসে সাফ বাণিজ্যিক ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান টিএসএ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টকে। সম্প্রচার সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে টি-স্পোর্টস এবং টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পেয়েছে টিকিফাই। আয়োজনের কাঠামো তৈরি হয়েছে, কিন্তু সেই আয়োজনের প্রচার সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কতটা পৌঁছেছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন!

টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা ও প্রচারের দায়িত্ব একাধিক প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলেও দর্শক টানার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ কতটা দৃশ্যমান, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আট বছর পর দেশের মাঠে সাফ আয়োজনের সুযোগকে ঘিরে যে বিপণন ও প্রচারণার প্রত্যাশা ছিল, বাস্তব চিত্রে তার প্রতিফলন কম।

আয়োজনের বাইরের এই প্রশ্নের মধ্যেই মাঠের লড়াই নিয়ে তৈরি হচ্ছে ভিন্ন সমীকরণ। স্বাগতিক বাংলাদেশকে এবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছে প্রতিপক্ষরাও। ভারতীয় দলের কোচ নওশাদ মুসা ঢাকায় এসে বাংলাদেশের শক্তিমত্তার প্রশংসা করেছেন। তার বিবেচনায়, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের দলই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী। ফাইনালে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হওয়ার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি মাঠে তার প্রতিফলন ঘটানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সাফের ইতিহাসে ভারত সবচেয়ে সফল দল। এখন পর্যন্ত নয়বার শিরোপা জিতেছে তারা। ১৯৯৩ সালে প্রথম শিরোপার দেখা পায় তারা।

Share this news as a Photo Card