দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি বহুগুণ বাড়াতে মোংলা বন্দরে শুরু হতে যাচ্ছে এক বিশাল অবকাঠামোগত কর্মযজ্ঞ।
আগামী ৫ই নভেম্বর মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নতুন দুটি কন্টেইনার জেটি নির্মাণকাজের শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরের মধ্য দিয়ে অঞ্চলটিকে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি অবস্থান আরও সুস্পষ্ট হতে যাচ্ছে।
প্রকল্পের নানা দিক ও বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, প্রায় ৪০৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছাবে। প্রকল্পের অধীনে ৩৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি আধুনিক কন্টেইনার টার্মিনাল, বিশাল কন্টেইনার ইয়ার্ড এবং নতুন টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমসহ অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডেলিং ইকুইপমেন্ট যুক্ত করা হবে। এতে বন্দরের পণ্য খালাসের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পর মোংলা বন্দর ঘণ্টায় ৩০টিরও বেশি এবং বছরে প্রায় ৪ লাখ টিইইউএস (TEUs) কন্টেইনার হ্যান্ডেল করার নতুন রেকর্ড সক্ষমতা অর্জন করবে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের মতে, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে শুধু বন্দর ব্যবহারকারীরাই উপকৃত হবেন না, বরং বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এটি জাতীয় অর্থনীতি ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও সার্বিক কর্মসূচির বিবরণ দিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুর ইসলাম জানান, সফরকালে মোংলা বন্দর অবকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ এবং ‘চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন’-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এই চুক্তির ফলে মোংলা বন্দরের সঙ্গে সরাসরি রেল সংযোগ তৈরি হবে, যার মাধ্যমে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে ছেড়ে আসা কন্টেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে গিয়ে নামবে এবং সেখান থেকে জাহাজে পণ্য লোড-আনলোড করা যাবে। এতে পরিবহন খরচ ও সময় অনেকাংশে কমে আসবে এবং দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের মোংলা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ ও বিনিয়োগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুর ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরবর্তী সূচি জানিয়ে আরও বলেন, মোংলা বন্দরের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর দরগাহ প্রাঙ্গণে যাবেন এবং মাজার জিয়ারত করবেন। পরবর্তীতে তিনি সড়কপথে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়ে সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নবিরতি সম্পন্ন করবেন। বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিভাগীয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’-এর দ্বিতীয় পর্ব উদ্বোধন করবেন এবং কর্মসূচি শেষে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এটিএম আকরাম হোসেন তালিম জানান, দলীয় প্রধান তথা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।





















