মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৪:১৩ পূর্বাহ্ন | ৪ঠা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১৯শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বরিশালে বসতঘরের মেঝেতে তৈরি সেই দুই কবর অবশেষে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো

  • হালনাগাদ সময় : ০৩:২২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বসতঘরের মেঝেতে রহস্যজনকভাবে দুটি কবর তৈরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। অবশেষে প্রশাসনের উপস্থিতিতে কবর দুটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলোর নির্মাতা সজীব বেপারী।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল ও আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান সরেজমিনে উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ওই বাড়িতে যান। এ সময় তাঁরা বসতঘরের মেঝেতে তৈরি করা দুটি কবর দেখতে পান।

পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সজীব বেপারী ও তাঁর মা শিউলী বেগমের সঙ্গে কথা বলেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সজীব নিজেই কবর দুটি তৈরি করার কথা স্বীকার করেন। এরপর প্রশাসনের উপস্থিতিতে তিনি নিজেই কবর দুটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। তবে কী কারণে কবর দুটি তৈরি করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

এ ঘটনায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না বলে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন সজীব বেপারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী প্রায় ছয় মাস ধরে কথিত ধ্যানে বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রতিদিন তাঁর কাছে প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসতেন। প্রতি সোমবার রাতে রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যেত।

এরই মধ্যে গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে এবং একই দিন রাত ১২টার দিকে সজীবের বসতঘরের মেঝেতে অলৌকিকভাবে দুটি কবর জেগে উঠেছে বলে এলাকায় প্রচার করা হয়। সজীবের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কবর দুটি গায়েবিভাবে সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী এবং অন্যটি খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর কবর বলে দাবি করেন সজীব।

বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কবর দুটি দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। পাশাপাশি সজীবের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল জানান, এমন একটি ঘটনার খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবে প্রতারিত না হন, সে জন্য সজীব বেপারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই কবর দুটি তৈরি করার কথা স্বীকার করেন। পরে নিজের তৈরি কবর দুটি নিজেই ভেঙে ফেলেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে সজীব ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে শ্রমিক আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

03 November 2026

ইউনিয়ন পরিষদে দফাদারের নতুন নাম হলো ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বরিশালে বসতঘরের মেঝেতে তৈরি সেই দুই কবর অবশেষে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো

হালনাগাদ সময় : ০৩:২২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বসতঘরের মেঝেতে রহস্যজনকভাবে দুটি কবর তৈরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। অবশেষে প্রশাসনের উপস্থিতিতে কবর দুটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলোর নির্মাতা সজীব বেপারী।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল ও আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান সরেজমিনে উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ওই বাড়িতে যান। এ সময় তাঁরা বসতঘরের মেঝেতে তৈরি করা দুটি কবর দেখতে পান।

পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সজীব বেপারী ও তাঁর মা শিউলী বেগমের সঙ্গে কথা বলেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সজীব নিজেই কবর দুটি তৈরি করার কথা স্বীকার করেন। এরপর প্রশাসনের উপস্থিতিতে তিনি নিজেই কবর দুটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। তবে কী কারণে কবর দুটি তৈরি করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

এ ঘটনায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না বলে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন সজীব বেপারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী প্রায় ছয় মাস ধরে কথিত ধ্যানে বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রতিদিন তাঁর কাছে প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসতেন। প্রতি সোমবার রাতে রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যেত।

এরই মধ্যে গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে এবং একই দিন রাত ১২টার দিকে সজীবের বসতঘরের মেঝেতে অলৌকিকভাবে দুটি কবর জেগে উঠেছে বলে এলাকায় প্রচার করা হয়। সজীবের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কবর দুটি গায়েবিভাবে সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী এবং অন্যটি খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর কবর বলে দাবি করেন সজীব।

বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কবর দুটি দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। পাশাপাশি সজীবের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল জানান, এমন একটি ঘটনার খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবে প্রতারিত না হন, সে জন্য সজীব বেপারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই কবর দুটি তৈরি করার কথা স্বীকার করেন। পরে নিজের তৈরি কবর দুটি নিজেই ভেঙে ফেলেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে সজীব ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card