মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:২২ অপরাহ্ন | ২রা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার, ১৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ডিএনএ বিশ্লেষণের গতি বাড়াতে বাকৃবি গবেষকদের নতুন সফটওয়্যার উদ্ভাবন

  • হালনাগাদ সময় : ১০:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

ডিএনএ সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ দ্রুত ও কার্যকর করতে নতুন সফটওয়্যার তৈরি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। সফটওয়্যারটি ডেস্কটপের পাশাপাশি ওয়েব সংস্করণেও ব্যবহার করা যাবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অফিসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় গবেষকেরা এ তথ্য জানান। কর্মশালার শিরোনাম ছিল ‘গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেসভিত্তিক ডেস্কটপ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে ডিএনএ সিকোয়েন্সের সাদৃশ্য দক্ষতার সঙ্গে শনাক্তকরণ’।

গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স (সিএসএম) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন। তিনি জানান, প্রচলিত প্রোটিন সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সাদৃশ্য নির্ণয়ে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। সেখানে নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে একই কাজ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নির্ভুলভাবে করা সম্ভব। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় এবং প্রাক-প্রস্তাবনার ভিত্তিতে তৈরি সফটওয়্যারটি অত্যন্ত অপ্টিমাইজড। এটি এখন ডেস্কটপ ও ওয়েব—উভয় সংস্করণেই সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। ওয়েব সংস্করণটি (http://dnasimlab.com) ঠিকানায় ব্যবহার করা যাবে।

গবেষক দলে আরও ছিলেন মাইফি-উল আসাদ এবং বাকৃবির বায়োইনফরমেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ ইশমামুল হক ও মো. আসিফুজ্জামান।

গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি ডিএনএ সিকোয়েন্স অক্ষরে অক্ষরে মেলানোর পরিবর্তে তাঁরা ডিএনএর ছোট ছোট অংশ নিয়ে পরীক্ষা করেছেন, সেগুলো অন্য ডিএনএতে কতটা মেলে। ডিএনএর দুই সুতোয় অক্ষরগুলো জোড়ায় থাকে (A-T, C-G)। তাই সরাসরি মিলের পাশাপাশি উল্টো জোড়ার মিলও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই হিসাব থেকে প্রতিটি ডিএনএর জন্য একটি সংখ্যার তালিকা তৈরি হয়। পরে সেই তালিকা তুলনা করে বংশবৃক্ষ (ফাইলোজেনেটিক ট্রি) তৈরি করা হয়।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, এ পদ্ধতির মাধ্যমে তৈরি বংশবৃক্ষ ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত সঠিক। জনপ্রিয় সফটওয়্যার মেগার (MEGA) তুলনায় এটি ৫৫ থেকে ১ হাজার ৭৪৭ গুণ দ্রুত কাজ করে এবং অন্য পদ্ধতির তুলনায় ৩০ থেকে ৯৯ শতাংশ কম মেমোরি ব্যবহার করে। এ গবেষণার ওপর একটি প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘মলিকিউলার জেনেটিক্স অ্যান্ড জিনোমিক্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ। সভাপতিত্ব করেন সিএসএম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. সাইদ ইফতিখার ইউসুফ। এ সময় অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে এমন একটি ব্যবহারবান্ধব সফটওয়্যার তৈরি করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। অনেকে অফিস বা আইসিটি বিভাগের বাইরেও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার তৈরি করেন। তিন মাসের নিবিড় গবেষণার ফল হিসেবে তৈরি এ সফটওয়্যারটির ব্যবহার ও উপস্থাপনা—দুই দিক থেকেই এটি বড় অর্জন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্ভাবনের মাধ্যমে বায়োইনফরমেটিক্স গবেষকগণ উপকৃত হবেন।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৯৭০

02 November 2026

সুন্দরগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটোভ্যানযাত্রী নিহত, আহত দুই

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ডিএনএ বিশ্লেষণের গতি বাড়াতে বাকৃবি গবেষকদের নতুন সফটওয়্যার উদ্ভাবন

হালনাগাদ সময় : ১০:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ডিএনএ সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ দ্রুত ও কার্যকর করতে নতুন সফটওয়্যার তৈরি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। সফটওয়্যারটি ডেস্কটপের পাশাপাশি ওয়েব সংস্করণেও ব্যবহার করা যাবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অফিসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় গবেষকেরা এ তথ্য জানান। কর্মশালার শিরোনাম ছিল ‘গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেসভিত্তিক ডেস্কটপ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে ডিএনএ সিকোয়েন্সের সাদৃশ্য দক্ষতার সঙ্গে শনাক্তকরণ’।

গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স (সিএসএম) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন। তিনি জানান, প্রচলিত প্রোটিন সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সাদৃশ্য নির্ণয়ে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। সেখানে নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে একই কাজ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নির্ভুলভাবে করা সম্ভব। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় এবং প্রাক-প্রস্তাবনার ভিত্তিতে তৈরি সফটওয়্যারটি অত্যন্ত অপ্টিমাইজড। এটি এখন ডেস্কটপ ও ওয়েব—উভয় সংস্করণেই সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। ওয়েব সংস্করণটি (http://dnasimlab.com) ঠিকানায় ব্যবহার করা যাবে।

গবেষক দলে আরও ছিলেন মাইফি-উল আসাদ এবং বাকৃবির বায়োইনফরমেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ ইশমামুল হক ও মো. আসিফুজ্জামান।

গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি ডিএনএ সিকোয়েন্স অক্ষরে অক্ষরে মেলানোর পরিবর্তে তাঁরা ডিএনএর ছোট ছোট অংশ নিয়ে পরীক্ষা করেছেন, সেগুলো অন্য ডিএনএতে কতটা মেলে। ডিএনএর দুই সুতোয় অক্ষরগুলো জোড়ায় থাকে (A-T, C-G)। তাই সরাসরি মিলের পাশাপাশি উল্টো জোড়ার মিলও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই হিসাব থেকে প্রতিটি ডিএনএর জন্য একটি সংখ্যার তালিকা তৈরি হয়। পরে সেই তালিকা তুলনা করে বংশবৃক্ষ (ফাইলোজেনেটিক ট্রি) তৈরি করা হয়।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, এ পদ্ধতির মাধ্যমে তৈরি বংশবৃক্ষ ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত সঠিক। জনপ্রিয় সফটওয়্যার মেগার (MEGA) তুলনায় এটি ৫৫ থেকে ১ হাজার ৭৪৭ গুণ দ্রুত কাজ করে এবং অন্য পদ্ধতির তুলনায় ৩০ থেকে ৯৯ শতাংশ কম মেমোরি ব্যবহার করে। এ গবেষণার ওপর একটি প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘মলিকিউলার জেনেটিক্স অ্যান্ড জিনোমিক্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ। সভাপতিত্ব করেন সিএসএম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. সাইদ ইফতিখার ইউসুফ। এ সময় অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে এমন একটি ব্যবহারবান্ধব সফটওয়্যার তৈরি করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। অনেকে অফিস বা আইসিটি বিভাগের বাইরেও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার তৈরি করেন। তিন মাসের নিবিড় গবেষণার ফল হিসেবে তৈরি এ সফটওয়্যারটির ব্যবহার ও উপস্থাপনা—দুই দিক থেকেই এটি বড় অর্জন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্ভাবনের মাধ্যমে বায়োইনফরমেটিক্স গবেষকগণ উপকৃত হবেন।

Share this news as a Photo Card