কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টিউবওয়েল স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসে লাগা আগুন টানা ছয় দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। রোববার রাত পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনবরত গ্যাস নির্গমন হতে দেখা গেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে দুর্ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ১৪৪ ধারা কার্যকর করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) ও পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন নেভাতে তাৎক্ষণিক কোনো বড় পদক্ষেপে না গিয়ে পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। আগামী ১৫ দিন গ্যাসের নির্গমন ও আগুনের তীব্রতা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করা হবে। এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে এটিকে ‘ফরমেশন গ্যাস’ বলে মনে করা হচ্ছে। ভূগর্ভের প্রায় ৩০০ মিটার গভীরে এর সন্ধান মেলায় তুলনামূলক অগভীর হওয়ার কারণে প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা কিছুটা জটিল হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনাস্থলে পানির উপস্থিতি দেখা দেওয়ায় গ্যাস নির্গমন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে আসার একটি সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে টানা ছয় দিন ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় ইনানী ছোট খাল ও শফিরবিল এলাকার চার শতাধিক পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের গঠিত যৌথ কমিটি ১৫ দিনের পর্যবেক্ষণ শেষে চূড়ান্ত রিপোর্ট ও পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।


























