মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৪:০২ পূর্বাহ্ন | ৩রা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১৮ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বরিশালে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি শিশুকন্যা, ১৪ দিন后 ফিরল মায়ের কোলে

  • হালনাগাদ সময় : ০৩:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

মাত্র দেড় মাস বয়সী মেয়েকে হারিয়ে ১৪ দিন ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মা বৃষ্টি বেগম। অবশেষে পুলিশের তৎপরতায় ফিরে পেয়েছেন বুকের ধন। তবে শিশুটিকে ঘিরে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেশীর পরিচিত এক নারী শিশুটিকে বাসা থেকে নিয়ে ৩৫ হাজার টাকায় অন্যের কাছে বিক্রি করেছিলেন। এ ঘটনায় দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার।

আটক নারীরা হলেন নগরীর রূপাতলী মওলানা ভাসানী সড়কের মৃত কামাল শেখের স্ত্রী নাসিমা বেগম ওরফে কবিরাজ নাসিমা এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরবাড়ি স্কুল এলাকার মৌরি।

পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর রূপাতলী মওলানা ভাসানী সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে সোহেল ও বৃষ্টি দম্পতির ৪৫ দিন বয়সী মেয়ে সাদিয়া নিখোঁজ হয়। ওই সময় শিশুটি ঘুমিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর মা বৃষ্টি ঘরে ফিরে মেয়েকে বিছানায় না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

শিশুটির বাবা সোহেল সবজি বিক্রি করেন। সংসারের খরচ চালাতে মা বৃষ্টি স্থানীয় বাজারে মাছ কাটার কাজ করেন। ঘটনার দুই দিন আগে সোহেল কাজের প্রয়োজনে বরগুনায় গিয়েছিলেন। এ সুযোগে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, প্রতিবেশী নাসিমা কবিরাজের কাছ থেকে বৃষ্টি বিভিন্ন সময় ঝাড়ফুঁক, তদবির ও তাবিজ-কবজ নিতেন। ঘটনার দিন নাসিমা তাঁকে একটি কাগজ পুড়িয়ে আনার জন্য পাশের বাড়ির পেছনে পাঠান। বৃষ্টি সেখান থেকে ফিরে এসে দেখেন, তাঁর শিশুকন্যা আর ঘরে নেই।

মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বৃষ্টি। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে শিশুটির মায়ের সন্দেহের ভিত্তিতে রাতে নাসিমা কবিরাজকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে অন্যের কাছে বিক্রির বিষয়টি জানা যায়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, নাসিমা শিশুটিকে মৌরি নামের এক নারীর কাছে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরে মৌরি সন্তানহারা তাঁর বড় বোন সম্পার কাছে শিশুটিকে পৌঁছে দেন। সম্পা শিশুটিকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে গিয়েছিলেন। পুলিশের তৎপরতার মধ্যে পরবর্তী সময়ে মৌরি শিশুটিকে নিয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় হাজির হন।

এদিকে সম্পা পুলিশকে জানান, তাঁর দুটি সন্তান মারা যাওয়ায় তিনি অসহায় কোনো পরিবারের কাছ থেকে একটি শিশু দত্তক নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। শিশুটি যে চুরি করে আনা হয়েছে, তা তিনি জানতেন না। বিষয়টি জানার পর শিশুটিকে ফিরিয়ে দেন।

সম্পার মায়ের ভাষ্য, বোরকা পরা এক নারী তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ১৫ হাজার টাকায় শিশুটি বিক্রির প্রস্তাব দেন। ওই নারীকে তাঁরা চিনতেন না। পরে শিশুটি চুরি করা হয়েছে জানতে পেরে সেটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে আটক নাসিমা বেগম তাঁর বিরুদ্ধে আনা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে আশাবাদী বাংলাদেশ

02 November 2026

আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণ

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বরিশালে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি শিশুকন্যা, ১৪ দিন后 ফিরল মায়ের কোলে

হালনাগাদ সময় : ০৩:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

মাত্র দেড় মাস বয়সী মেয়েকে হারিয়ে ১৪ দিন ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মা বৃষ্টি বেগম। অবশেষে পুলিশের তৎপরতায় ফিরে পেয়েছেন বুকের ধন। তবে শিশুটিকে ঘিরে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেশীর পরিচিত এক নারী শিশুটিকে বাসা থেকে নিয়ে ৩৫ হাজার টাকায় অন্যের কাছে বিক্রি করেছিলেন। এ ঘটনায় দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার।

আটক নারীরা হলেন নগরীর রূপাতলী মওলানা ভাসানী সড়কের মৃত কামাল শেখের স্ত্রী নাসিমা বেগম ওরফে কবিরাজ নাসিমা এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরবাড়ি স্কুল এলাকার মৌরি।

পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর রূপাতলী মওলানা ভাসানী সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে সোহেল ও বৃষ্টি দম্পতির ৪৫ দিন বয়সী মেয়ে সাদিয়া নিখোঁজ হয়। ওই সময় শিশুটি ঘুমিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর মা বৃষ্টি ঘরে ফিরে মেয়েকে বিছানায় না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

শিশুটির বাবা সোহেল সবজি বিক্রি করেন। সংসারের খরচ চালাতে মা বৃষ্টি স্থানীয় বাজারে মাছ কাটার কাজ করেন। ঘটনার দুই দিন আগে সোহেল কাজের প্রয়োজনে বরগুনায় গিয়েছিলেন। এ সুযোগে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, প্রতিবেশী নাসিমা কবিরাজের কাছ থেকে বৃষ্টি বিভিন্ন সময় ঝাড়ফুঁক, তদবির ও তাবিজ-কবজ নিতেন। ঘটনার দিন নাসিমা তাঁকে একটি কাগজ পুড়িয়ে আনার জন্য পাশের বাড়ির পেছনে পাঠান। বৃষ্টি সেখান থেকে ফিরে এসে দেখেন, তাঁর শিশুকন্যা আর ঘরে নেই।

মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বৃষ্টি। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে শিশুটির মায়ের সন্দেহের ভিত্তিতে রাতে নাসিমা কবিরাজকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে অন্যের কাছে বিক্রির বিষয়টি জানা যায়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, নাসিমা শিশুটিকে মৌরি নামের এক নারীর কাছে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরে মৌরি সন্তানহারা তাঁর বড় বোন সম্পার কাছে শিশুটিকে পৌঁছে দেন। সম্পা শিশুটিকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে গিয়েছিলেন। পুলিশের তৎপরতার মধ্যে পরবর্তী সময়ে মৌরি শিশুটিকে নিয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় হাজির হন।

এদিকে সম্পা পুলিশকে জানান, তাঁর দুটি সন্তান মারা যাওয়ায় তিনি অসহায় কোনো পরিবারের কাছ থেকে একটি শিশু দত্তক নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। শিশুটি যে চুরি করে আনা হয়েছে, তা তিনি জানতেন না। বিষয়টি জানার পর শিশুটিকে ফিরিয়ে দেন।

সম্পার মায়ের ভাষ্য, বোরকা পরা এক নারী তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ১৫ হাজার টাকায় শিশুটি বিক্রির প্রস্তাব দেন। ওই নারীকে তাঁরা চিনতেন না। পরে শিশুটি চুরি করা হয়েছে জানতে পেরে সেটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে আটক নাসিমা বেগম তাঁর বিরুদ্ধে আনা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

Share this news as a Photo Card