ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আবরারকে ঘিরে ঢাবিতে সেমিনার ও চিত্র প্রদর্শনী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

ছাত্রলীগের হাতে নির্মমভাবে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আয়োজিত হলো ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব: স্মরণে শহীদ আবরার ফাহাদ’ শীর্ষক সেমিনার ও চিত্র প্রদর্শনী।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থানের প্রতীক শহীদ আবরারের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মৃতিতে ঢাবির আর সি মজুমদার হলে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী দিবস’ উপলক্ষে এর আয়োজন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনার ও প্রদর্শনীতে উদ্বোধক ছিলেন আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রেজাউল করিম রনি, আবরারের ভাই আবরার ফাইয়াজ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. আব্দুর রব প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আবরারের রক্তে শুধু অন্যায়ের প্রতিবাদই ঝরেনি, বরং তা হয়ে উঠেছে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দৃঢ় আহ্বান। তারা মনে করিয়ে দেন, কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক যেন সার্বভৌম সিদ্ধান্তের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ না করে।

আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমার সঙ্গে আবরারের কিছু মিল আছে, আবার কিছু অমিলও আছে। আমরা দুইজনই বুয়েটের ছাত্র, দুইজনই শেরেবাংলা হলে ছিলাম, দুইজনই ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এই মিলগুলো আমার কাছে গৌরবের। তবে অমিলের জায়গা হলো- শহীদ আবরার শহীদ হতে পেরেছেন, আমি পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আবরারের পথেই আমাদের মুক্তির পথ। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আবরার ফাহাদ শহীদ হয়েছেন।’

একই স্থানে আয়োজন করা হয় ‘স্মরণে মননে শহীদ আবরার ফাহাদ’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনীর। প্রদর্শনীতে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে শহীদ আবরারের জীবন ও আদর্শ ফুটে উঠেছে। এরপর পলাশী চত্বরে আগ্রাসনবিরোধী ৮ স্তম্ভের উদ্বোধন করা হয়।

প্রসঙ্গত, বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আবরার শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। সেখান থেকে ডেকে নিয়ে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। রাত ৩টার দিকে হলের সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলা: শেখ হাসিনা, জয়সহ ১১৩ জনের অব্যাহতি চেয়ে পুলিশের প্রতিবেদন

আবরারকে ঘিরে ঢাবিতে সেমিনার ও চিত্র প্রদর্শনী

আপডেট সময় : ০৪:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

ছাত্রলীগের হাতে নির্মমভাবে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আয়োজিত হলো ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব: স্মরণে শহীদ আবরার ফাহাদ’ শীর্ষক সেমিনার ও চিত্র প্রদর্শনী।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থানের প্রতীক শহীদ আবরারের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মৃতিতে ঢাবির আর সি মজুমদার হলে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী দিবস’ উপলক্ষে এর আয়োজন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনার ও প্রদর্শনীতে উদ্বোধক ছিলেন আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রেজাউল করিম রনি, আবরারের ভাই আবরার ফাইয়াজ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. আব্দুর রব প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আবরারের রক্তে শুধু অন্যায়ের প্রতিবাদই ঝরেনি, বরং তা হয়ে উঠেছে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দৃঢ় আহ্বান। তারা মনে করিয়ে দেন, কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক যেন সার্বভৌম সিদ্ধান্তের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ না করে।

আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমার সঙ্গে আবরারের কিছু মিল আছে, আবার কিছু অমিলও আছে। আমরা দুইজনই বুয়েটের ছাত্র, দুইজনই শেরেবাংলা হলে ছিলাম, দুইজনই ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এই মিলগুলো আমার কাছে গৌরবের। তবে অমিলের জায়গা হলো- শহীদ আবরার শহীদ হতে পেরেছেন, আমি পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আবরারের পথেই আমাদের মুক্তির পথ। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আবরার ফাহাদ শহীদ হয়েছেন।’

একই স্থানে আয়োজন করা হয় ‘স্মরণে মননে শহীদ আবরার ফাহাদ’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনীর। প্রদর্শনীতে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে শহীদ আবরারের জীবন ও আদর্শ ফুটে উঠেছে। এরপর পলাশী চত্বরে আগ্রাসনবিরোধী ৮ স্তম্ভের উদ্বোধন করা হয়।

প্রসঙ্গত, বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আবরার শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। সেখান থেকে ডেকে নিয়ে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। রাত ৩টার দিকে হলের সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।