আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি তার আগের কর্মজীবনে ফিরে যাবেন এবং ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া বা কোনো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় পদে থাকার কোনো ইচ্ছা তার নেই।
রোববার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাপানের সাবেক ফার্স্ট লেডি আকিয়ে আবে এবং জাপানি উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেন, তিনি মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং ‘থ্রি জিরো’ অর্থাৎ শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ ও শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ—এই ধারণাগুলো বাস্তবায়নেই কাজ করতে চান।
প্রধান উপদেষ্টা জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশ তার সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী।
সাক্ষাৎকালে আকিয়ে আবে বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ড. ইউনূসের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বৈঠকে বিনিয়োগ, সামুদ্রিক গবেষণা এবং জাপানে পরিচর্যাকারী ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। জাপানে দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এসব পেশায় জনবলের চাহিদা বাড়ছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
সামুদ্রিক দূষণ রোধে সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন আকিয়ে আবে। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে যেন আবর্জনা না ফেলা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। ভবিষ্যতে এ নিয়ে কিছু করতে পারব বলে আমি আশাবাদী। একই সঙ্গে তিনি সমুদ্র দূষণের ক্ষতিকর দিক নিয়ে জনগণকে সচেতন করতে বড় পরিসরে প্রচারণার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টা জাপানি প্রতিনিধিদলকে জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের দায়িত্ব ছাড়ার পর মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি টোকিও সফরের পরিকল্পনা করছেন। সেখানে তিনি জাপানের স্বনামধন্য সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে একটি যৌথ সামুদ্রিক গবেষণা উদ্যোগে অংশ নেবেন।
প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম উপকূলে মহেশখালী-মাতারবাড়ী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরেরও পরিকল্পনা করেছে। এই চুক্তির আওতায় উপকূলীয় এলাকায় তিনটি মডেল মৎস্যগ্রাম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জাপানে কর্মসংস্থানের জন্য হাজার হাজার নার্স ও কেয়ারগিভারকে প্রশিক্ষণের কার্যক্রম জোরদার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি এই উদ্যোগকে সহায়তা করতে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক লাখ বাংলাদেশি কর্মীকে জাপানে পাঠাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি হয়েছে। কর্মী নিয়োগের এই সংখ্যা আরও বাড়াতে আকিয়ে আবে ও জাপানি প্রতিনিধিদলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে জাপানের শীর্ষ বায়োফুয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইউগ্লেনার প্রতিষ্ঠাতা মিৎসুরু ইজুমোও সামাজিক ব্যবসাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















