মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলায় একটি বসতবাড়িতে গড়ে তোলা আধুনিক ইয়াবা কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মাদক তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম, কেমিক্যাল এবং বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বেতকা গ্রামে এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মো. ফিরোজ (৩৫)। তিনি রাজধানীর বাসাবো এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ফিরোজ দক্ষিণ বেতকা গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন এবং স্থানীয়দের অগোচরে সেখানে মাদক উৎপাদনের গোপন আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ফিরোজ দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সেসব মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে বছর পাঁচেক আগে তিনি টংগিবাড়ীতে এসে আত্মগোপন করেন। তবে সেখানে অবস্থানকালেও তিনি তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় ছয়-সাত মাস আগে ফিরোজ হংকং থেকে ইয়াবা তৈরির আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে দেশে ফেরেন। এরপর বিদেশ থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মাদক তৈরির বিভিন্ন বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদান আনিয়ে দক্ষিণ বেতকার ওই ভাড়া বাড়িতে ইয়াবা উৎপাদন শুরু করেন। উৎপাদিত এই মাদক তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহের পরিকল্পনা করছিলেন।
অভিযান চলাকালে ওই বাড়ি থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৫ গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ), ইয়াবা তৈরির একটি আধুনিক মেশিন এবং বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্য ও আনুষঙ্গিক উপকরণ জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ফিরোজ স্বীকার করেছেন যে তিনি বিদেশ থেকে আনা প্রযুক্তি ও কেমিক্যাল ব্যবহার করে সম্প্রতি বাণিজ্যিকভাবে ইয়াবা উৎপাদন ও বিক্রির কাজ শুরু করেছিলেন। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তাদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং উদ্ধারকৃত আলামতের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
রিপোর্টারের নাম 





















