রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের কাজদিয়া নিবাসী মরহুম শেখ আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার ও খ্যাতিমান আইনজীবী ব্যারিস্টার এস এম আবু নঈম আহম্মেদ রিপন (৫৪) গতকাল রাতে ঢাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি মা, ভাই-বোন, দুই কন্যা ও এক পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, সজ্জন ও মানবিক গুণসম্পন্ন একজন মানুষ। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন খ্যাতিমান ও পরোপকারী আইনজীবী। শিক্ষাজীবনে তিনি কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন।
কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগদান করে স্কোয়াড্রন লিডার পদে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন (যুক্তরাজ্য) থেকে এমবিএ, এমডিসি ও এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন আইসিএবিতে প্রাক্তন সিনিয়র উপ-পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ জজ কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে একজন অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেট হিসেবে দেওয়ানি, ফৌজদারি, রিট ও কোম্পানি ম্যাটার্সে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
তার মৃত্যুর খবর শুনে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ তার বাড়িতে ছুটে আসেন। আজ ২৩ ডিসেম্বর বিকেলে মরহুমের লাশ নিজ বাসভবনে পৌঁছালে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরে খুলনা নৌবাহিনীর অনারারি সাব-লেফটেন্যান্ট রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
মরহুমের জানাজা নামাজ আজ ২৩ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) মাগরিবের পর কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজ পরিচালনা করেন মাওলানা হাফেজ ইমদাদুল ইসলাম।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ফিরোজ শাহ, খুলনা বয়রা মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক খান আহমেদুল কবীর (চাইনিজ), মোংলা বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী শেখ শওকত আলী, ব্যারিস্টার গোলাম মোস্তফা, মরহুমের ভাই ডা. শেখ আব্দুল মোমেন আহমেদ (দিনার), ক্যাপ্টেন শেখ আবুল মাসুম (মিনার), কর্নেল এস এম এহসান (মিল্টন), শেখ আবু সুফিয়ান রুবেল, খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা উল বারী লাভলু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুকু, জেলা বিএনপির সদস্য আছাফুর রহমান, বিএনপি নেতা খান আনোয়ার হোসেন, মহিউদ্দিন মিন্টু, আজিজুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান খান শাহজাহান কবীর (প্যারিস), সমাজসেবক খান আসাদুজ্জামান, মাহমুদ শেখ, হাকিম কাজী, জিএম আসাদুজ্জামান, সৈয়দ মাহমুদ আলী, কামরুল ইসলাম কচি, খান মারুফ হোসেন, এফ এম মনিরুল ইসলাম, সুলতান মাহমুদ বাদশা, বাদশা জমাদ্দার, আলম শেখ, শামীম হাসান, ওবায়েদ ফারাজি, রউফুল হক মুকুল, বশির আহম্মেদ লালু, সাজ্জাদ হোসেন, মাসুদ খান, মুন্না সরদার, খান আলিম হাসান, কামরুজ্জামান নান্টু, জহিরুল হক শারাদ, তরিকুল ইসলাম রিপন, মহিউদ্দিন লিটু, ওলিয়ার রহমান, আবুল কালাম, শেখ ফরিদ আহম্মেদ, এফ এম আইয়ুব আলী, নাহিদ জামান, শাহজাদা আলমগীর, জাহাঙ্গীর হালদার, আইয়ুব খান, মারুফ খান, জিয়া খান, টিটো জমাদ্দার, ফেরদৌস, জহির ও তাহসিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জানাজা শেষে মরহুমকে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর পিতার কবরের পাশে দাফন করা হয়। এর আগে মরহুমকে শেষবারের মতো দেখতে আসেন রূপসা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র।
রিপোর্টারের নাম 

























