বঙ্গোপসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সাথে পরিবর্তিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় একটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন করতে যাচ্ছে ভারত। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটিটি মূলত উত্তর বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ ঠেকানোর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
১০ জানুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় নৌবাহিনী হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে এই নতুন ‘নেভাল ডিটাচমেন্ট’ বা নৌ-উপঘাঁটিটি চালু করতে যাচ্ছে। এই ঘাঁটিতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক মোতায়েন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সমুদ্রপথে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা এবং বঙ্গোপসাগরে চীনা যুদ্ধজাহাজের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি রাখা। বিশেজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ।
হলদিয়ার এই ঘাঁটিতে মূলত ‘ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট’ (FIC) এবং ৩০০ টন ওজনের ‘নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট’ (NWJFAC) মোতায়েন করা হবে। এই জাহাজগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৪০-৪৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম এবং এগুলো অত্যাধুনিক সিআরএন-৯১ গান ও ‘নাগাশস্ত্র’ ড্রোন সিস্টেমে সজ্জিত থাকবে। কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি সমুদ্রের খুব কাছে হওয়ায় হুগলি নদীর দীর্ঘ পথ অতিক্রম না করেই দ্রুত গভীর সমুদ্রে পৌঁছাতে পারবে ভারতীয় নৌসেনা। এটি ভারতের পূর্ব উপকূলীয় কমান্ড বিশাখাপত্তনম এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
রিপোর্টারের নাম 
























